তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি

এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় তোমাদের জন্য আজ থাকছে প্রথম অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বায়োমেট্রিক্স এবং বায়োইনফরমেটিক্স। শব্দ দুটি শুনতে প্রায় একই রকম মনে হলেও বিষয় কিন্তু দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীরা উত্তর লেখার সময় এই দুটি বিষয়ে এলোমেলো করে ফেলে। তাই এই দুটি বিষয়ের পার্থক্য বোঝানোর জন্য বিষয় দুটি একসাথে নিয়ে এসেছি।

বায়োমেট্রিক্স (Biometrics): গ্রীক শব্দ “bio” (life) ও “metric” (to measure) থেকে উত্পত্তি হয়েছে Biometrics । বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানো কোনো ব্যক্তির দেহের গঠন/শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে চিহ্নিত বা পৃথক করা যায়।  অর্থাত্ বায়োমেট্রিক্স হলো বায়োলজিক্যাল ডেটা মেপে এবং বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পৃথক বা চিহ্নিত করার প্রযুক্তি।

অপরদিকে, বায়োইনফরমেটিক্স (Bioinformatics) হলো: জীববিজ্ঞানের সমস্যাগুলো কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর সমাধান করা।

Ask.com অনুসারে বায়োইনফরমেটিক্স হলো: বিজ্ঞানের সে শাখা, যা বায়োলজিক্যাল ডেটা এনালাইসিস করার জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তি, ইনফরমেশন থিয়োরি এবং গাণিতিক জ্ঞানকে ব্যবহার করে। বায়োইনফরমেটিক্সে অন্তর্ভুক্ত ডেটাসমূহ হলো ডিএনএ, জিন, এমিনো এসিড এবং নিউক্লিক এসিড ইত্যাদি  এবং এতে অন্তর্ভুক্ত বিজ্ঞানসমূহ হলো জীববিজ্ঞান, কম্পিউটার ও অন্যান্য বিষয়।

এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি প্রযুক্তি। উচ্চতর গবেষণা ব্যতীত এর ব্যবহার নেই। অপরদিকে বায়োমেট্রিক্স এর ব্যবহার এখন খুব বেশি। তাই বায়োমেট্রিক্স সম্পর্কে তোমাদের আরো বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।

এখন আমরা জানবো বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে? বায়োমেট্রিক্সের মধ্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট এখন খুবই জনপ্রিয় একটি সিস্টেম। আমরা যদি এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে একটু চিন্তা করি তাহলেই বুঝতে পারব বায়োমেট্রিক্স কীভাবে কাজ করে? ধরে নেই কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি নির্ণয়ের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন নিয়ে আসা হলো। সেখানে প্রথমেই প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে তাদের নাম এবং রোল নম্বর ইনপুট দেয়ার পাশাপাশি তাদের আঙ্গুলের ছাপও ইনপুট হিসেবে দিতে হবে। এটাকে বলা হয় ক্যাপচার (Capture) যা আঙ্গুলের ছাপকে স্যাম্পল হিসেবে গ্রহণ করবে। তারপর গ্রহণকৃত স্যাম্পলটিকে বিশ্লেষণ করে ডেটাবেজে সংরক্ষণ করবে। এটাকে বলা হয় এক্সট্রাকশন(Extraction)। তারপর যখন ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদিন এসে এখানে আঙ্গুলের ছাপ দেবে তখন পূর্বে ডেটাবেজে সংরক্ষিত স্যাম্পলটির সাথে মেশিন মিলিয়ে দেখবে। এ কাজটিকে বলা হয় কমপারিজন(Comparison)। তারপর ম্যাচিং (Matching) করে দেখা হবে দুটি স্যাম্পল একই রকম কীনা?

তাহলে আমরা দেখতে পেলাম বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি কাজ করে মূলত চারটি ধাপে।

১. ক্যপচার (Capture)

২.এক্সট্রাকশন (Extraction)

৩.কমপারিজন (Comparison)

৪. ম্যাচিং (Matching)

এ কাজগুলো করতে যে যে উপাদানগুলো প্রয়োজন তা হলো- সেন্সর (Sensor), কম্পিউটার (Computer) এবং সফটওয়্যার (Software)।

আমরা শুধু বায়োমেট্রিক্স এ ফিঙ্গারপ্রিন্ট কীভাবে কাজ করে দেখলাম। এছাড়াও বায়োমেট্রিক্স আরো বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। যেমন-

(ক)দেহের গঠন বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে-

১.ফেইস/মুখ রিকোগনিশন(Face Recognition): মানুষের মুখের গঠন প্রকৃতি পরীক্ষা করে সনাক্তকরণ পদ্ধতি। সম্প্রতি ল্যাপটপ, নোটবুক ইত্যাদি ডিভাইসে লগইন এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

২. হ্যান্ড জিওমেটরি(Hand Geometry): হাতের গঠন/আকৃতি বা জ্যামিতিক গঠন নির্ণয়ের মাধ্যমে সনাক্তকরণ পদ্ধতি।

৩. আইরস এবং রেটিনা স্ক্যান (Iris Recognition and Retina Scan): এ পদ্ধতিতে চোখের মনির চারিপার্শ্বে বেষ্টিত রঙিন বলয় (colored ring) এবং চোখের পেছনের রেটিনার মাপ বিশ্লেষণ করে।

৪. ডিএনএ (DNA): কোষের মধ্যে অবস্থিত ডিএনএ বিশ্লেষণ করে ব্যক্তি সনাক্তকরণ পদ্ধতি। এটি মূলত চিকিত্সা ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয়। একই পরিবারের সদস্যদের চিহ্নিত করতে এটি বহুল ব্যবহূত হয়। সন্তানের পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব নিয়ে বিবাদ দেখা দিলে তা সমাধানে ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ব্যবহূত হয়। যেহেতু সন্তানেরা পিতার অর্ধেক ও মাতার অর্ধেক ডিএনএ লাভ করে। আবার কোনো দূর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে যখন চোখে দেখে সনাক্তকরণ সম্ভব হয় না তখনও এ প্রযুক্তি ব্যবহূত হয় । ১৯৮৬ সালে অ্যালেক জেফ্রিস ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্ট আবিষ্কার করেন এজন্যে তাকে ডিএনএ ফিঙ্গার প্রিন্টের জনক বলা হয়।

(খ) আচরণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে- ১.কণ্ঠস্বর (Voice): প্রত্যেকের কণ্ঠের ধ্বনির বৈশিষ্ট্য, সুরের উচ্চতা, সুরের মূর্ছনা ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে সনাক্তকরণ পদ্ধতি।

২. সিগনেচার (Signature): হাতের দস্তগত বিশ্লেষণ করা। বায়োমেট্রিক্স এর ব্যবহার (Application of Biometrics): বর্তমানে আমাদের দেশে বায়োমেট্রিক্স এর ব্যবহার ব্যাপক। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিতি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতির ব্যবহার হচ্ছে।

বায়োমেট্রিক্স এর সুবিধা:  যন্ত্রনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা হওয়ায় নিখুঁত নিরাপত্তা পাওয়া যায়। ইন্সটলেশনের পর আর তেমন খরচ নেই এখানে স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই

একে জাল বা নকল করা প্রায় অসম্ভব বায়োমেট্রিক্স এর অসুবিধা: ইন্সটলেশনের খরচ বেশি পরিচালনায় দক্ষ লোকের প্রয়োজন।