সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে জমি অধিগ্রহণ শুরু

সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে জমি অধিগ্রহণের সীমানা চিহ্নিতকরণ ও ভিডিও ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার এই কাজ শুরু করেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে সৈয়দপুরকে দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে নতুন টার্মিনাল ভবন ও উড়োজাহাজ (এয়ারক্রাফট) পার্কিংয়ের দুটি অতিরিক্ত অ্যাপ্রোন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। কেবল বাকি ছিল রানওয়ে বাড়ানোর জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ। তারও পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন মিলেছে।

সূত্রটি আরও জানায়, সৈয়দপুর বিমানবন্দরটিতে ৬ হাজার ৮০০ ফুট রানওয়ে রয়েছে। তবে সুপরিসর বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য ওই রানওয়ে পর্যাপ্ত নয়। ফলে রানওয়েটি ১২ হাজার ফুট সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা হবে দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে। এ কারণে সৈয়দপুর উপজেলার পৌরসভা, বাঙালিপুর ইউনিয়ন ও দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের এলাকা জুড়ে ৯ হাজার ৯০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে বিদেশি পরামর্শক (কনসালটেন্ট) নিয়োগ করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল সৈয়দপুর বিমানবন্দর উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন দ্রুত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করতে।

সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকার চায় বিমানবন্দরটিকে রিজিওনাল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে।

সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার জানান, দেশের দীর্ঘতম রানওয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে সৈয়দপুরে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হয়েছে। চিহ্নিত এলাকায় লাল নিশান পোতাসহ ভিডিও চিত্র ধারণের কাজও চলছে। বর্তমানে বিমানবন্দরে রয়েছে ১৩৬ দশমিক ৫৯ একর জমি। সম্প্রসারণে আরও ৯৮৯ দশমিক ৪৯ একর জমি অধিগ্রহণের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছি। রানওয়ে সম্প্রসারণ হলে এখানে সব ধরনের বিমান ওঠা-নামা করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক শাহীন আহমেদ জানান, সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, আগামী ২০২০ সালের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে।