পথশিশুদের জন্য পৃথক স্কুল প্রতিষ্ঠা করুন

জনসংখ্যাকে চাপ হিসেবে না নিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা গেলে এরা জনসম্পদে পরিণত হবে। এদের বৃহত্তম একটি অংশ পথশিশু—যাদের বসবাস ফুটপাত, পার্ক কিংবা রেল স্টেশনগুলোতে। এদের সংখ্যা ত্রিশ লক্ষাধিক। যেহেতু এরা এ দেশেরই নাগরিক তাই এদেরকে বাদ দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি কল্পনা করা যায় না। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও এদের খাবার কিন্তু আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। সবসময় হয়তো তিনবেলা খাবারও এদের ভাগ্যে জোটে না। যার কারণে এই শিশুরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যায়। কিংবা স্বার্থান্বেষী মহল এদের ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ হাসিল করে। যার ফলে এই শিশুদের থেকেই তৈরি হয় বড় বড় অপরাধী। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। কিন্তু এদের বাদ দিয়ে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। সরকার যেমনি প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সংখ্যালঘুসহ সকলের দিকে নজর দিচ্ছে। এদের কেন্দ্র করে অনেক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে। তেমনি পথশিশুদের প্রতিও নজর দেওয়া দরকার। সরকার দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালনা করছে। এতে আমাদের দেশের শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণও করছে। কিন্তু পথশিশুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তাছাড়া অন্য শিক্ষার্থীরাও এদের দিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে তাকায়। তাই পথশিশুদের জন্য পৃথক কারিগরি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেখানে শিক্ষার বিনিময়ে খাবার দেওয়া হবে। এতে করে পথশিশুরাও আগ্রহী হবে শিক্ষার প্রতি। আর এদেরকে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপশি কারিগরিভাবেও দক্ষ করে গড়ে তোলা গেলে এরা দেশের সম্পদে পরিণত হবে। যার ফলে দেশে অপরাধপ্রবণতাও কমবে এবং অর্থনৈতিকভাবেও দেশ সমৃদ্ধ হবে।

রিফাত মাহদী

শিক্ষার্থী, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়