ক্যাচ মিসের পর মুস্তাফিজের ঝলক

প্রায় দুই সপ্তাহ আগের কথা। গত ২০ জুন নটিংহ্যামে ১০ রানে থাকে ডেভিড ওয়ার্নারের ক্যাচ ফেলেছিলেন সাব্বির রহমান। ম্যাচে যেই ক্যাচ মিসের চড়া মাশুল দিয়েছিল বাংলাদেশ। জীবন পাওয়ার পর আরো ১৫৬ রান যোগ করেছিলেন ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়ার রানটা চড়েছিল পাহাড়ে।

গতকাল এজবাস্টনে তামিম ইকবাল ক্যাচ ফেলেন ৯ রানে থাকা রোহিত শর্মার। তারপর দ্রুত গতিতে ছুঁটতে থাকা রোহিত শর্মা ও ভারতের রানের লাগাম অবশ্য টেনে ধরতে সমর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। জীবন পেয়ে রোহিত সেঞ্চুরি করেছেন। যোগ করেছেন আরো ৯৫ রান।

ভারতের রানের ফল্গুধারা থামিয়েছে বাংলাদেশ ইনিংসের মাঝ পথে এসে। সেটাও ভারতের ওপেনিং জুটি ভাঙার পর। পুরাতন বলে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনে কাঁপন ধরালেন মুস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টারের ক্যারিয়ারের চতুর্থবার পাঁচ উইকেট শিকারে রানটা নাগালের বাইরে চলে যায়নি। সম্ভাবনা জাগালেও সাড়ে তিনশ ছাড়ায়নি ভারতের স্কোর। রোহিতের সেঞ্চুরিতে গতকাল ৯ উইকেটে ৩১৪ রান তুলেছে ভারত।

২০১৫ সালে অভিষেকেই ভারতের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচে ১১ উইকেট (৫+৬) নিয়েছিলেন  মুস্তাফিজ। তারপর ওই বছরই নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৪ রানে ৫ উইকেট পান। চার বছর পর গতকাল আবারও ৫ উইকেট পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। বলা বাহুল্য, ক্যারিয়ারে তিনবারই ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনকে কুপোকাত করে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

অবশ্য টসে হেরে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ শুরুতেই সুযোগ পেয়েছিল ভারতকে চাপে ফেলার। মুস্তাফিজের করা ইনিংসের ৫ম ওভারে মিড উইকেটে রোহিতের ক্যাচ ফেলেছেন তামিম। তার দিকে সরাসরি উড়ে আসা বলটা তালুবন্দি করতে পারেননি তিনি। তখন রোহিত ছিলেন ৯ রানে। ক্যাচ মিসের ওই ঘটনার পর লোকেশ রাহুলকে নিয়ে ভারতের রানকে এগিয়ে নেন ডানহাতি এই ওপেনার। ৯০ বলে ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করেন রোহিত। যা বিশ্বকাপে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি।

বাংলাদেশকে স্বস্তির আবহ এনে দেন সৌম্য সরকার। ৩০তম ওভারে অনিয়মিত এই পেসারের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন রোহিত। ৯২ বলে ১০৪ রান (৭ চার, ৫ ছয়) করেন তিনি। তারপরই মূলত ম্যাচে ফিরতে শুরু করে বাংলাদেশ।

সঙ্গীর বিদায়ের পর রাহুলও বেশিক্ষণ স্থায়ী হননি। ৭৭ রান করে তিনি রুবেলের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রাহুল। ৩৯তম ওভারে মুস্তাফিজের জোড়া আঘাতে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় বাংলাদেশ। ওভারের দ্বিতীয় কোহলি (২৬) ও চতুর্থ বলে পান্ডিয়া (০) মুস্তাফিজের কাটারের শিকার হন। পান্ত-ধোনির ৪০ রানের জুটিটা ভেঙে দেন সাকিব। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে পান্ত ক্যাচ দেন ৪৮ রান করে। পরে ধোনির ৩৫ রানে তিনশ পার হয় ভারতের স্কোর।

শেষ দিকে ভারতের রানটাকে টেনে ধরেছিলেন মুস্তাফিজ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়েছেন তিনি। ৪৮তম ওভারে দিনেশ কার্তিক (৮), ৫০তম ওভারের তৃতীয় বলে ধোনিও তার শিকার হন। ইনিংসের শেষ বলে শামিকে বোল্ড করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি পেসার। ৫৯ রানে ৫ উইকেট পান মুস্তাফিজ। এছাড়া সাকিব, রুবেল, সৌম্য একটি করে উইকেট নেন।