সারাদিন পরে কাজ সেরে এসে আমাদের শান্তির জায়গা হচ্ছে ঘর। ঘর যদি সুন্দর হয় তাহলে শান্তি বেড়ে যায় দ্বিগুণ। কিন্তু ঘর সাজিয়ে গুজিয়ে রাখতে অনেক কিছু মাথায় রাখতে হয়। অনেক শখ কাজ করে। সব মিলেমিশে একটা কনফিউশন তৈরি হয় তখন। এই ঘর সাজানোর সময় আমরা যদি কিছু ছোট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখি তাহলে ঘর লাগবে আকর্ষণীয় ও নান্দনিক। চলুন সেই ছোট বিষয়গুলোর দিকে একটু নজর দেই যা বর্তমানে খুব ট্রেন্ডি।
প্রবেশ মুখে গৃহের সজ্জা
আপনি কেমন রুচির মানুষ তার পরিচয় প্রবেশ মুখেই পাওয়া যাবে। ঘরকে প্রবেশ মুখে এমনভাবে সজ্জিত করুন যাতে কোন মানুষ ঢুকেই তার মন ভালো হয়ে যায় প্রবেশ মুখে এমন কিছু রাখুন যা দেখতে লাগে আকর্ষণীয়। প্রবেশ মুখে একটা ছোট আয়না রাখা যায় কিছু মাটির তৈরি শোপিস রাখা যায় কিংবা কর্নার র্যাক রাখা যায় অথবা কোন ছবির ফ্রেম টানানো যায় যেখানে বেশ কিছু পজিটিভ কোড লেখা থাকে। এছাড়াও সুগন্ধি মোমবাতি রাখা যেতে পারে যাতে প্রবেশ মুখেই একটা স্নিগ্ধ সুবাস লাগে নাকে।
দেয়ালে রং এর ব্যবহার
এখন দেয়ালে একটু কালারফুল ভাইব্রেন্ট এ ধরনের রঙেরই চল। এছাড়াও দেয়ালের দুই প্রান্তে দুই ধরনের কম্বিনেশন করে রংয়ের একটা ট্রেন্ড চলছে। তবে রং করার সময় ঘরের শেপ মাথায় রাখতে হবে কারণ বেশি গাঢ় উজ্জ্বল রং মাঝে মাঝে ঘরকে খানিকটা ছোট করে দেয়। তাই রংকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে ঘর বুঝে।
আয়নার ব্যবহার
আয়না নেই এমন ঘর হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। মানুষ দিনে কমপক্ষে তিন থেকে সাত বার আয়নায় নিজেকে দেখে। আর এখন দেখা যায় শখ করেই ঘরে নানা আকৃতির আয়না রাখা হয়। এছাড়া আয়নার পাশে কোনো জিনিস শোকেস করা গেলে নান্দনিকভাব আসবে।
কুশনের ব্যবহার
কর্নার চেয়ার, সোফা ডিভান খাট এইসব রঙিন কুশন রাখতে পারেন। লাইট কালারের কভার বা চাদর আর চারিদিকে রঙিন কুশন দেখে মনে হবে রঙের সাম্রাজ্যে আছি। আর এখন ঘর সাজানো মানেই রঙ্গিন কিছু। ৪-৫ টা রঙ্গিন কুশন ঘরের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
লাইটিং করে ঘর সাজানো
ঘর সাজাতে লাইটিংয়ের জুড়ি নেই। এটি হয়ে উঠতে পারে আপনার ঘর সাজানোর অন্যতম অনুষঙ্গ। যে কারণে ঘরে লাইটের ব্যবহার এতটা নান্দনিক। অল্প খরচে ঘরে আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে চাইলে ল্যাম্পের ব্যবহার। ঘরের এক কোণে একটি রঙিন ল্যাম্প রেখে দিন। সেটা হতে পারে হলুদ, লাল, নীল, কমলা কিংবা সবুজ অথবা বেশ কিছু রঙের মিশ্রণে তৈরি।
বুক শেলফ
এখন অনেক বাহারি ডিজাইনের বুক শেলফ পাওয়া যায়। সেগুলো দেওয়ালের মধ্যে তাক করে রাখা যায় কিংবা আধুনিক ডিজাইনে স্টাডি টেবিলের পাশেও রাখা যায় । আর বই পড়ার জন্য একটা টেবিল ল্যাম্প রাখুন। আলো-ছায়াময় পরিবেশ তৈরি হবে।
ঘরে গাছ রাখা
সাধারণত ঘরে গাছ জীবিত থাকে না। তবে অল্প সংখ্যক গাছ ঘরের অল্প আলোতে বেশ সতেজ থাকে। যেমন: মানি প্ল্যান্ট, লাকি ব্যাম্বু, ফিলোডেনড্রন, কয়েন প্লান্ট, স্পাইডার এই গাছগুলো ঘরের তাপমাত্রায় বেশ ভালো থাকে। আর প্রতিদিন পানিও দেওয়া লাগে না। এছাড়া সাইড টেবিল, জানালার কর্নার কিংবা আলো আসে এমন জায়গায় রাখলে বেশ ভালো লাগবে।
দেয়ালের নকশা
শুধু রঙ বেরঙের দেয়ালে আটকে নেই বর্তমান সময়। দেওয়ালের ডিজাইন আছে নানারকম চিত্র কাজ নকশা ইত্যাদি। সমস্ত নকশা নির্ভর করছে ব্যক্তি বিশেষ ঘর বিশেষ। বয়স অনুযায়ী রুচিভেদে বিভিন্ন থিমে এই দেয়ালগুলো সাজানো যায়। গৃহের সৌন্দর্য ও শোভা বাড়াতে এই ধরনের নান্দনিক দেয়াল বর্তমানে খুব জনপ্রিয়। বাইরে থেকে কেউ এসে যদি আপনার এই দেয়াল দেখে তার নিজেরও মন বেশ ভালো লাগবে।
এইভাবে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী থিম মাথায় রেখে নিজের অন্দর সাজানো যায়। এছাড়া এইসবের পাশাপাশি ঘর অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে। জায়গার জিনিস জায়গায় রাখতে হবে। নিজেকে পরিপাটি রাখার পাশাপাশি নিজের অন্দরকেও সমানভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে।