আত্মবিশ্বাসী ম্যাথুসে মুগ্ধ লঙ্কা

বল হাতে জয়ের নায়ক হলেন এমন একজন বোলার যিনি কি না দলে থেকেও গেল ১৮ মাসে একবারও বোলিং করেননি! তিনি হলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরিয়ান নিকোলাস পুরানকে ফিরিয়ে দিয়ে তিনিই আসলে শ্রীলঙ্কার জয়টা নিশ্চিত করেছেন।

ম্যাথুস সর্বশেষ বোলিং করেছেন ২০১৭ সালে। এতদিন পর বোলিংয়ে ফিরেই অভাবনীয় এই সাফল্যের রহস্যটা কি? অধিনায়ক দ্বিমুথ করুনারত্নে মনে করেন, ম্যাথুসের আত্মবিশ্বাসই এখানে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘ইনিংসের শেষে অ্যাঞ্জেলো নিজে থেকেই আগ্রহ প্রকাশ করে। হাত তুলে বলে - ঠিক আছে! আমি দুই ওভার বল করবো। তার মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস ছিল। আমি মনে করি এই আত্মবিশ্বাসটাই ওকে চাঙ্গা করে দিয়েছে।’

ম্যাথুস অমিত প্রতিভা নিয়ে এসেছিলেন শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে। মনে করা হচ্ছে মাহেলা-সাঙ্গাকারার পর লঙ্কান ক্রিকেট তার হাত ধরেই এগিয়ে যাবে। অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু, তাকে ঘিরে কোনো স্বপ্নই পূরণ হয়নি। প্রত্যাশার চাপ মেটাতে পারেননি তিনি।

ক্যারিয়ারের লম্বা একটা সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে ধুকেছেন। দলের বাইরে গেছেন, আবার ফিরেছেন। এসবের কারণে এখন আর বোলিং করেন না। বরং মনোযোগ দেন ব্যাটিংয়ে। সর্বশেষ কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে ও বোর্ডের সাথে ঝামেলা বাধিয়ে ক্যারিয়ারটাই বিসর্জন দিতে বসেছিলেন তিনি। যদিও, এবার বোলিংয়ে আবারও নজর কাড়লেন তিনি। দুই ওভার বোলিং করে ছয় রান দিয়ে এক উইকেট নেন তিনি।

তবে, করুণারত্নে মতে করেন বোলিংয়ে এখন এমন ‘ক্যামিও’ ভূমিকা রাখা বাদে বড় কিছু করার নেই ম্যাথুসের। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না এখনও ওর পুরো ১০ ওভার বোলিং করার ক্ষমতা আছে। তবে দলের প্রয়োজনে দুই-তিনটা ওভার ও দিব্যি করে দিতে পারবে।’

চেস্টার লি স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শ্রীলঙ্কা জিতে ২৩ রানে। জয়ের জন্য ৩৩৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৫ রান করতে সক্ষম হয়। যদিও, এই জয়ে শ্রীলঙ্কার সেমিফাইনালে ওঠার পথে কোনো লাভ হয়নি। আট ম্যাচে আট পয়েন্ট পেয়েছে দলটি। এর মধ্যে তিনটি জয়ের পাশে এসেছে তিনটি পরাজয়। আর বৃষ্টির কারণে বাতিল হয় দুটি ম্যাচ।

অধিনায়ক অবশ্য নেতিবাচক কিছু ভাবতে নারাজ। বরং দলের পারফরম্যান্সে গর্বিত তিনি। বললেন, ‘আজকের এই জয়টা অসাধারণ ছিল। এটা আমাদের অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে। সব খেলোয়াড়ই নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করেছে। একজন অধিনায়ক হিসেবে আমি তাদের কাছ থেকে এটাই আশা করি। দল নিয়ে আমি গর্বিত।’

ম্যাচে শ্রীলঙ্কার আরেক প্রাপ্তি হলেন আভিস্কা ফার্নান্দো। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া তরুণ এই ব্যাটসম্যান ১০৩ বলে ১০৪ রান করেন। ইনিংসে ছিল নয়টি চার ও দুটি ছক্কা। ম্যাচ শেষে ফার্নান্দো বলেন, ‘উইকেট সহজ ছিল না। কঠিন অবস্থায় আমাদের ব্যাটিং করতে হয়েছে। ফলে, সেঞ্চুরিটা সহজ ছিল না। নিজের প্রথম বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি সবার কাছ থেকে মাঠে সমানভাবে সমর্থন পেয়েছি।’