শীতে কাঁপছে পুরো দেশ। এমন শীতে পিঠে-পুলি, পায়েশ না হলে কি জমে। আজকাল অনেকেই অবশ্য পিঠে তৈরি করতে পারেন না। তবে চিন্তা নেই রইলো পলিন ডি রোজারিও'র সহজ ৩টি পিঠের রেসিপি।
কাটাকলি পিঠা
উপকরণ
চালের গুড়া ১/২ কেজি, নারিকেল কুড়ানো ২ কাপ, খেজুরের গুড় ৫০০ গ্রাম, সাদা তিল ১ কাপ, লবণ ১ চিমটি, পানি পরিমাণমতো ও টিনের নেইল বা কাটার।
প্রণালী
প্রথমে নারিকেল কুড়িয়ে নিন। এরপর তিলগুলো পরিষ্কার করে হালকা ভেজে নিন। এখন একটা প্যানে হালকা মাঝারি তাপে গুড় গলিয়ে তাতে কুড়ানো নারিকেল দিয়ে ভালোভাবে নেড়েচেড়ে পাক এনে একটু শক্ত হলে ভাজা তিলগুলো দিয়ে দিন। ভালোভাবে নেড়ে একটু শক্ত হলে নামিয়ে নিন। কিছুটা ঠান্ডা হয়ে এলে ছোট ছোট লেচি তৈরি করে নিন। সসপ্যানে পানি দিয়ে চালের গুড়া ভালোভাবে সেদ্ধ করে বড় আকারের রুটি বেলে একটি করে নারিকেলের লেচি দিয়ে টিনের কাটার বা নেইলের সাহায্যে ছোট ছোট করে ধনুক আকৃতির পিঠা কেটে নিন। চুলায় একটি লোহার বড় তাওয়া বসিয়ে মাঝারি তাপে পিঠাগুলোকে ভালোভাবে মচমচে করে ছেঁকে নিন। অসাধারণ স্বাদের এই কাটাকলি পিঠা টিনে বা বয়্যামে একমাস সংরক্ষণ করা যায়।
নারিকেল পাকন
উপকরণ
নারিকেল ২ টা, গুড় ৭০০ গ্রাম, সাদা তিল ১ কাপ, ময়দা ১ কেজি, তেল ১/২ লিটার, লবণ ১ চামচ, পানি পরিমাণমতো, টিনের কাটার বা নেইল।
প্রণালী
প্রথমে নারিকেল ও সাদা তিল গুড় দিয়ে পাক দিয়ে ২ ১/২ পরিমাণ লেচি তৈরি করে রাখুন। ১ কেজি ময়দায় ১ কাপ তেল দিয়ে প্রথমে ভালোভাবে নেড়েচেড়ে আস্তে আস্তে পানি দিন। ডো যেন খুব বেশি নরম বা খুব বেশি শক্ত না হয়। ডো ভালোভাবে ময়ান দিতে হবে নতুবা পিঠা ফুলে উঠবে না। ডো তৈরি হয়ে গেলে একটা ভেজা কাপড় দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। চুলায় মাঝারি তাপে একটি বড় কড়াইয়ে তেল দিয়ে রেখে দিন। এখন ময়দার ডো থেকে পরিমাণমতো নিয়ে বড় আকারের রুটি বানিয়ে একটি করে লেচি ভেতরে দিয়ে রুটি উল্টিয়ে ছবির পিঠার আকৃতিতে কেটে নিন। টিনের নেইল বা কাটারের সাহায্যে কাটতে হবে। এখন ডুবো তেলে মাঝারি তাপে পিঠাগুলো মচমচে করে ভেজে নিন। একটি ট্রেতে টিস্যু বিছিয়ে পিঠা গুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
ফুলঝুরি পিঠা
উপকরণ
চালের গুঁড়া ২ কাপ, ময়দা ১ কাপ, তরল দুধ ১/২ কাপ, ডিম ২ টা, লবণ সামান্য, তেল ১/২ কেজি, পিঠার ছাঁচ ২টি।
প্রণালী
প্রথমে সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। খেয়াল রাখতে হবে যেন ব্যাটার বেশি পাতলা বা বেশি ঘন না হয়। ঢেকে দেড় ঘণ্টা রেখে দিন। একটি ফ্রাইংপ্যানে তেল গরম করে ছাঁচটাকে তেলে ১০ মিনিট ভালোভাবে গরম করে নেই নতুবা পিঠা ছাঁচ থেকে উঠবে না। এখন ছাঁচটাকে তেল থেকে উঠিয়ে ৩/৪ ভাগ ডুবিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খুব দ্রুত ফ্রাইংপ্যানে দিতে হবে। কয়েক সেকেন্ড পর হালকা ঝাঁকিয়ে ছাঁচ থেকে পিঠা তেলে ছেড়ে দিন। এখন এপিঠ-ওপিঠ হালকা বাদামি করে ভেজে নিন। এভাবে একটি পিঠা হওয়ার সময় ছাঁচটি তেল গরম করে পুনরায় একই ভাবে আবার আরেকটা তেলে ছেড়ে দিতে হবে। পিঠা তোলার সময় এটা কিছুটা নরম থাকে কিন্তু ফুলঝুরি পিঠা যত ঠাণ্ডা হবে ততটাই শক্ত হয়ে যাবে। এই পিঠা বড় জারে সংরক্ষণ করে তিন থেকে চার মাস ধরে খাওয়া যায়।