হলুদে সেজেছে মাঠ, ২ কোটি টাকার মধু আহরণের টার্গেট মৌচাষিদের

সরিষা ফুলের হলুদ বরণে সেজেছে মানিকগঞ্জের ফসলের মাঠ। দিগন্তজোড়া মাঠের যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ রঙের মাখামাখি।  প্রতিবছর শীত মৌসুমে সরিষা ক্ষেতের আইলে বসানো হয় মৌবাক্স। দেশের বিভিন্ন এলাকার মৌচাষিরা এ সময় ভিড় জমান মানিকগঞ্জে।

এ বছর ঘিওর উপজেলাসহ জেলার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ঘিওর, মানিকগঞ্জ সদর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলায় এসব মৌচাষীর সংখ্যা বেশি। ছোট-বড় মিলে কমপক্ষে ৩০ জন চাষির প্রায় পাঁচ হাজার মৌ-বাক্স বসানো হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব বাক্স থেকে চলবে মধু আহরণ। সরিষা ফুল থেকে প্রায় ২ কোটির টাকার মধু আহরণের টার্গেট মৌচাষীদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩৪ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব সরিষা খেতের পাশে প্রায় ৫ হাজার বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছেন মৌয়ালরা। প্রায় ৬০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি কেজি পাইকারি মধু ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকার মতো।

Ghior sorisa pic 2

সরজমিনে কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, সাতক্ষীরা, জামালপুর, গাজীপুর, পাবনা, নারায়নগঞ্জ, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মৌচাষীর দল মানিকগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরিষা ফুল থেকে বিশেষ কায়দায় মধু সংগ্রহ করছেন। তাদের সংগৃহীত এই মধু রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাইকারি এবং স্থানীয়ভাবে খুচড়া বিক্রি করা হয়।

সাতক্ষীরা থেকে আসা মৌচাষী সেলিম হাওলাদার বলেন, ৬ বছর আগে ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০টি বাক্স নিয়ে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু করি। বর্তমানে তার বাক্সের সংখ্যা দেড় শত। চলতি ২৫ মণ মধু সংগ্রহ করব। এই মধু ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় পাইকারি বিক্রি করি।

জেলার দৌলতপুরের উলাইল এলাকায় ফসলের মাঠের আইলজুড়ে মৌবাক্স বসিয়েছেন জামালপুর থেকে আসা মো. রাজন ও শফিকুল ইসলাম। তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দুবার এসব বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করা যায়। প্রতিটি বাক্স থেকে সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ কেজি মধু আহরণ করা যায়। প্রতি মণ মধু পাইকারি ১২-১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করি আশুলিয়ার এক পাইকারের কাছে।

Ghior sorisa pic 13

ঢাকা আরিচা মহাসড়কের পুখুরিয়া এলাকায় ১২০টি মৌবাক্স বসিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের কুমুলী এলাকার মৌচাষি দলের প্রধান মো. সেলিম। তিনি জানান, আমি প্রতি বছর মানিকগঞ্জে আসি। এ এলাকায় সরিষার আবাদ ও মধু আহরণ ভালো। এই মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করে ১০ জন শ্রমিকের সংসার চলছে। উন্নত প্রশিক্ষণ আর সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মধু সংগ্রহের কাজে ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব।

ঘিওর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসে মধু আহরণের কোনো লক্ষ্যমাত্রা নেই। তবে মাঠ পর্যায়ের তথ্য উপাত্তে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় দুই কোটি টাকার মধু সংগ্রহ হবে। তিনি আরও বলেন, সরিষা ফুল থেকে মৌমাছি মধু সংগ্রহের ফলে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার প্রায় ১০ শতাংশ ফলন বাড়ে। মধু সংগ্রহের পাশাপাশি  ফসলের ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ মেরে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহয়তা করে।