যমুনার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে চরকালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৩:৪৫

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে, যেকোনো মুহূর্তে পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর ও ভবনের সামনের অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নির্দেশে মাদ্রাসার আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নূরে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উজানের ঢল ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত কয়েক দিনে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাঙন এখন মাদ্রাসার মূল ভবনের একেবারে কোলঘেঁষে পৌঁছে গেছে। ভবনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মাদ্রাসার সুপার মাওলানা বাকি বিল্লাহ জানান, মাদ্রাসার বেশ কিছু অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভবনটি এখন আর ব্যবহার উপযোগী বা নিরাপদ নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তড়িঘড়ি করে চেয়ার, টেবিল, আলমারি, শিক্ষাসামগ্রীসহ সব মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যেভাবে ভাঙন এগোচ্ছে, তাতে পুরো ভবনটি যেকোনো সময় নদীতে ধসে পড়তে পারে।’

ভাঙন ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ভাঙনকবলিত মাদ্রাসা এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে স্থানীয়দের দাবি, যমুনার প্রবল স্রোতের তুলনায় জিও ব্যাগ ফেলার এই সাময়িক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না হলে মাদ্রাসার পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। চরাঞ্চল রক্ষায় তারা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি