এই অপরিণামদর্শিতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত

আমরা লক্ষ করিতেছি, উন্নয়নশীল বিশ্বেও নির্বাচন হয়। কিন্তু নির্বাচনের আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা ও মানদণ্ডে তাহা কতটা উত্তীর্ণ হয়, তাহা বলাই বাহুল্য। ইহার কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর স্বাধীনতাপ্রাপ্ত এই সকল দেশের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতির প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করিলে তাহা সহজেই বুঝা যায়। ক্ষমতায় টিকিয়া থাকিবার জন্য এই সমস্ত দেশের নেতারা কী না করেন! তাহারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন সকল শক্তিকে আসকারা দেন, যাহা অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। এমনকি ইহার জন্য দেশে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হওয়াটা অস্বাভাবিক নহে। তাহারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে মাদক কারবারসহ নানা অন্যায়মূলক কাজে সহায়তা করেন। ফলে হেন কোনো নিষিদ্ধ ব্যবসায়-বাণিজ্য ও অন্যায় অপকর্ম নাই, যাহা তাহাদের দ্বারা না-সংঘটিত হয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত অত্যন্ত নিকটজনেরাই তাহাদের সহিত যোগসাজশ রক্ষা করিয়া চলেন। ইহাতে দেখা যায়, সময় যত গড়ায়, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি অর্থ ও পেশির বলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করিতে থাকে।

এই সকল দেশে ক্ষমতায় যিনি বা যাহারাই থাকেন, তাহারা মুখে যাহাই বলুন না কেন, বাস্তবে ও কাজকর্মে প্রকারান্তরে তাহারা ঐ সমস্ত দেশবিরোধী শক্তিকে ফুলিয়া-ফাঁপিয়া বাড়িয়া উঠিতে সহযোগিতা করেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কমিউনিজমের প্রতিও তাহারা পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। তাহারা মনে করেন, এই শক্তি আপাতত তাহাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নহে। এই ভাবিয়া এই শক্তিকেও তাহারা বাড়িয়া উঠিবার অবকাশ দেন। এইভাবে দেখা যায়, ঐ সকল দেশের স্বাধীনতালাভের পর এই দুই শক্তি কোনো না কোনোভাবে সেই দেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করিতে শুরু করে। অথচ সেই পরিস্থিতিতে ক্ষমতালিপ্সু নেতারা কী করিতেছেন এবং কী করিবেন, তাহা অনেক সময় সঠিকভাবে বুঝিয়া উঠিতে পারেন না। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য ইহার পরিণতি কী হইতে পারে এবং কী ধরনের বিপদ ডাকিয়া আনিতে পারে, তাহাও তাহাদের চিন্তা ও কার্যকলাপে থাকে না।

দেশে দেশে এই সমস্ত ক্ষমতালোভী ব্যক্তিরা স্বাধীনতাবিরোধী ও পরাজিত শক্তির প্রতি যেইভাবে আনুকূল্য প্রদর্শন করেন, তাহা ভাবিলে বিস্মিত হইতে হয়। অনেক সময় এ সমস্ত শক্তিকে এমন সকল গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়, যাহা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অথচ ক্ষমতাসীনরা তাহাদের বিরুদ্ধেই প্রতিদিন বিষোদগার করেন এবং তাহাদের প্রতিরোধ করিবার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। একটি স্বাধীন দেশের জন্য ১০, ৩০ বা ৫০ বত্সর ধরিয়া টিকিয়া থাকাটা কম গুরুত্বপূর্ণ নহে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই ক্ষমতাসীনদের উদাসীনতা ও অদূরদর্শিতার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বলবান হইয়া দেশ ও জাতির জন্য সমূহ ক্ষতির কারণ হইয়া দাঁড়ায়। তাহারা ক্রমেই তাহাদের মুখোশ উন্মোচন করিতে থাকে এবং ধারণ করে ভয়ংকর রূপ।

এই সমস্ত দেশে যিনি মূল ক্ষমতায় থাকেন, তাহার নিকটস্থরা তাহাদের অজ্ঞাতে ঐ শক্তির ক্ষমতায়নে সর্বপ্রকার সহযোগিতা প্রদান করেন। তাহাদের দ্বারা প্রশাসনসহ বিভিন্ন বিভাগে চলে রাজনীতিকরণ। ইহাতে দেশে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। জনগণ তাহাদের দ্বারা অত্যাচার ও নির্যাতনে নিষ্পেষিত হয়। এই অপরিণামদর্শী লোকেরা দেশ ও জাতির জন্য যে ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করিতেছেন, সেই সম্পর্কে সকলের সচেতন হওয়া উচিত।‑