বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আরো বাড়ানোর পক্ষে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে এখানে চীনের আরো বেশি বিনিয়োগও চান ব্যবসায়ীরা। গতকাল মঙ্গলবার চীন সফররত বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা দেশটির ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠককালে এ আহ্বান জানান। ‘বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়ন’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি)। বৈঠকে সিসিপিআইটি নেতৃবৃন্দ ছাড়াও চীনের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি বিগত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরেন। এ সময় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার-প্রদত্ত বিভিন্ন সুবিধার কথা উল্লেখ করে চীনের বিনিয়োগকারীদের এখনো বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ০.৬৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে আমদানি করেছে ১১.৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
উল্লেখ্য, গত সোমবার এফবিসিসিআইয়ের ৫৯ সদস্যের এ প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে চীন গেছে। এফবিসিসিআই নেতারা আগামীকাল বাংলাদেশ ও চীনের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনুষ্ঠেয় একটি বিজনেস রাউন্ডটেবিলে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এর পরদিন ৫ জুলাই এফবিসিসিআই নেতৃবৃন্দ এবং সিল্ক রোড চেম্বার অব ইন্টারন্যাশনাল কমার্সের (এসআরসিআইসি) মধ্যে এক বিজনেস সভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে চার শতাধিক চীনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে। মূলত বিদ্যুত্, টেক্সটাইল, চামড়া, প্রকৌশল এবং অবকাঠামো নির্মাণ খাতে চীনের বিনিয়োগকারীরা কাজ করছেন।
প্রতিনিধিদলে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর প্রমুখ রয়েছেন।