শিক্ষামন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে শিক্ষামেলার আয়োজন

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নাম ব্যবহার করে শিক্ষামেলা আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে স্পন্সরের নামে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করছে।

আগামী ২৮ থেকে ৩০ জুলাই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘এডুকেশন ট্রেনিং অ্যান্ড জব ফেয়ার’-এর আয়োজন করা হয়েছে। ১ থেকে ৩ আগস্ট চট্টগ্রামেও এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। ওভাল গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই মেলার আয়োজন করছে।

একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো তাদের ব্রুশিয়ারে শিক্ষামন্ত্রীর ছবিও ব্যবহার করেছে। এই আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির নাম ব্যবহার, স্পন্সর এবং স্টলের জন্য বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এ কারণে অনেকে অনেকটা বাধ্য হয়ে স্টল বরাদ্দ নিতে পারেন।

মেলার টাইটেল স্পন্সরের জন্য ১০ লাখ টাকা, পাওয়ার্ড বাই-এর জন্য ৭ লাখ টাকা, প্লাটিনাম স্পন্সরের জন্য ৫ লাখ টাকা, গোল্ড স্পন্সরের জন্য ৩ লাখ টাকা এবং অর্ধপৃষ্ঠা সুভেনিরে বিজ্ঞাপনের জন্য ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া স্টলের সাইজ অনুসারে দামের ভিন্নতা রয়েছে। এর দাম ধরা হয়েছে এক লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ঢাকায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি মেলার উদ্বোধন করবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে দেওয়া হবে এইচএসসি ও সমমানের ফল। এসব শিক্ষার্থীর একটা বড় অংশ দেশের ১০৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। মূলত সেই টার্গেট রেখেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে এভাবে মেলার নামে বাণিজ্য করা হলে মন্ত্রী ওই অনুষ্ঠানে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।

ওভাল গ্রুপের শিক্ষামেলার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ম্যানেজার মো. রবিউল আলম খান বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে জানেন।’ তিনি অন্য একটি নম্বরে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু সেই নম্বরে কল দিলেও কেউ রিসিভ করেননি।

নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষামন্ত্রী থাকার সময়ে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ‘এইম ওয়ার্ল্ড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষামন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে ‘এডুকেশন এক্সপো’ করতে কাজ শুরু করেছিল। তারাও স্পন্সর বাবদ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরে ওই মেলা বন্ধ করে দেয়।