ভেঙে গেল সেমির স্বপ্ন

বাংলাদেশের সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ—ভারত ও পাকিস্তানকে হারাতে হবে এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারতে হবে ইংল্যান্ডকে। প্রথম শর্তটাই পূরণ হলো না। গতকাল বিশ্বকাপে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২৮ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ। বিফলে গেল সাকিব আল হাসানের একক লড়াই। আর এই জয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ভারত।

আগে ব্যাট করা ভারত ৯ উইকেটে তুলতে পেরেছিল ৩১৪ রান। জবাবে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় ২৮৬ রানে।

৩১৫ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে বাংলাদেশ কখনোই খুব ভালো করতে পারেনি। দুই ওপেনার তামিম ২২ ও সৌম্য ৩৩ রান করে আউট হন। মুশফিক ২৪ ও লিটন ২২ রান করে ফেরেন। মাঝে একা লড়াইটা ধরে রাখেন সাকিব আল হাসান। তিনি আউট হওয়ার আগে ৬৬ রান করেন।

এই স্কোরের ভেতর দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে সাকিবের মোট রান হলো ৫৪২। গতকাল অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নারকে টপকে তিনি চলে এসেছেন দুই নম্বরে। মাত্র ২ রান পিছিয়ে আছেন সাকিব শীর্ষে থাকা রোহিত শর্মার চেয়ে।

সাকিব আউট হওয়ার পর সাব্বির ও সাইফউদ্দিন খানিকটা বীরত্ব দেখিয়েছেন। তাতে কাজ হয়নি। সাব্বির ৩৬ রান করে ফেরেন। সাইফ দারুণভাবে একা লড়াই চালিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত এক প্রান্তে ৫১ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। 

টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। তাদের টপ অর্ডার এমন ঝড় চালাতে শুরু করে যে, রানটা সাড়ে তিন শ পার হয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিল। ২৯ ওভারে বিনা উইকেটে ১৮০ রান তুলেছিল ভারত।

ভয়ানক আক্রমণাত্মক ছিলেন রোহিত শর্মা। মাত্র ৯ রানে জীবন পেয়েছিলেন তিনি। মুস্তাফিজের বলে সহজ ক্যাচ ফেলেছিলেন তামিম ইকবাল। এরপর রীতিমতো ঝড় চালাতে শুরু করেন রোহিত। ৯২ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় ১০৪ রান করে পার্ট টাইম বোলার সৌম্য সরকারের শিকার হয়ে ফেরেন রোহিত। ১৫ রান পরই ফিরে আসেন লোকেশ রাহুল। লোকেশ রাহুল ৯২ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে রুবেলের শিকার হন।

এরপর ভারতের ইনিংসটা বড়ো করার চেষ্টা করেছিলেন বিরাট কোহলি ও ঋষভ পান্ট। কোহলি ২৬ রান করে মুস্তাফিজের প্রথম শিকারে পরিণত হন। এই ওভারটাই ছিল মুস্তাফিজের স্বপ্নের মতো ওভার। মেডেনসহ তুলে নেন ২ উইকেট। দ্বিতীয় বলে কোহলির উইকেট নেওয়ার পর চতুর্থ বলে নেন হার্দিক পান্ডিয়ার উইকেট। আর এখান থেকেই বাংলাদেশ খেলায় ফিরতে শুরু করে।

পান্ট ও ধোনি একটা জুটি করে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ভারতকে। কিন্তু পান্ট সাকিবের শিকারে পরিণত হন ৪৮ রান করে। সাকিব অসাধারণ ১০টি ওভার বল করেন। ১০ ওভারে মাত্র ৪১ রান দিয়ে তুলে নেন ১ উইকেট। তবে আসল কাজটা করেন মুস্তাফিজ।

শেষ ওভারগুলোতে মারকুটে ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু বিপজ্জনক হওয়ার সম্ভাবনা থাকা দিনেশ কার্তিককে আউট করে ধোনিকে একা করে দেন মুস্তাফিজ। এরপর ৩৫ রান করা ধোনির উইকেটও তুলে নেন। আর ইনিংসের শেষ বলে বোল্ড করে দেন মোহাম্মদ শামিকে। এর ভেতর দিয়ে চার বছর পর আবার ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫ উইকেট নিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এটা বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় ৫ উইকেট শিকারের ঘটনা। প্রথম কাজটা কদিন আগেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে করেছেন সাকিব। মুস্তাফিজের আরো একটা কীর্তি হলো। লাসিথ মালিঙ্গার পর তিনি দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি করলেন ।