দাতব্য প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন উদ্যোগ নিয়েছে প্রায় ২৫ হাজার সুবিধাবঞ্ছিত পরিবারের কাছে শীতবস্ত্র দেওয়ার। এ বছর প্রচন্ড শীতে নিম্ন আয়ের পরিবার গুলোর কষ্ট কিছুটা লাঘব করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন।
শীতবস্ত্র, শীতের কম্বল, মাসিক খাদ্য সামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, লবণ), মশারি, মশার কয়েল, শিশুদের শুষ্ক ত্বকের জন্য শীতের প্রসাধনী ও অনান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর স্বেচ্ছাসেবকরা। ইতোমধ্যেই রাজধানীর বস্তি এলাকা, সাভার, ও উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ডিসেম্বরের শুরুতে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম প্রসঙ্গে মাস্তুল ফাউন্ডেশন জানায়, ২৫ হাজার পরিবারের কাছে পৌঁছানোর এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার ১০ হাজার পরিবারের কাছে ইতোমধ্যেই এই উপহার পোঁছে গেছে। পর্যায়ক্রমে নেত্রকোনা, বগুড়া, চাপাইনবাবগঞ্জসহ অন্যান্য জেলা মিলিয়ে আরও ১৫ হাজার পরিবারের জন্য সামগ্রী পোঁছে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।
শীতের এই সহযোগিতা দেওয়ার প্রসঙ্গে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, অসহায়কে সাহায্য করা, তার পাশে দাঁড়ানো, ইসলামের অন্যতম আদর্শ। আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি পেতে হলে মানুষের প্রতি দয়া করতে হবে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সকল কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আর শীতার্তদের সহায়তা করে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ এ বছর আমরা ২৫ হাজারের মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারব এই আশায় রাখছি। আমাদের ফান্ড সীমিত তাই চাইলেও আমরা সবাইকে সাহায্য দিতে পারি না। অবশ্য সমাজের সবাই এগিয়ে আসলে আমাদের এই উদ্যোগ সফল হবে।”
উল্লেখ্য, মাস্তুল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান। মাস্তুলের রয়েছে নিজস্ব স্কুল, মাদ্রাসা এবং শেল্টারহোম যেখানে আবাসিক/অনাবাসিক মিলে শতাধিক পিতামাতাহীন/ অনাথ/ এয়াতিম শিক্ষার্থী রয়েছে । এর বাহিরে কয়েক জেলায় প্রজেক্ট স্কুলগুলোতে হাজারের অধিক সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সকল শিক্ষার উপকরন দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, পুষ্টিকর খাবার, শিশু অধিকার, মৌলিক চাহিদা নিশ্চয়তা করা হচ্ছে। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের রয়েছে সেলাই প্রশিক্ষন কেন্দ্র, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে কর্মক্ষম করে তোলা হচ্ছে। এর বাহিরে যাকাত স্বাবলম্বী প্রজেক্টের মাধ্যমে ১০০০ জনের বেশি মানুষকে স্বাবলম্বী করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে দাফন-কাফন সেবা প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০০ এর অধিক লাশ দাফন হয়েছে। রয়েছে বৃদ্ধ বাবা-মা দের জন্য মাস্তুল বৃদ্ধাশ্রম এবং মাস্তুল মেহমানখানা, যেখান থেকে শতাধিক অসহায় নিম্ন আয়ের মানুষের একবেলা পেট পুড়ে খাওয়ার ব্যাবস্থা হয়।