বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৭৫ জনকে জাতিসংঘ শান্তি পদক প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ সুদানের রাজধানীর যুবার টম্পিং-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ পদক দেওয়া হয়। মনোমুগ্ধকর ম্যাডেল প্যারেডের মধ্য দিয়ে পদক প্রদান করা হয়। তখন যুবার আকাশে পতপত করে উড়ছিল বাংলাদেশের গর্বের লাল-সবুজের পতাকা, বিউগলে বেজে ওঠে প্রাণের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। অনুষ্ঠানে আগত জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত ফোর্স কমান্ডার মেজর জেনারেল ডেসডংডগ বলেন, দক্ষিণ সুদানের শান্তিরক্ষা এবং শান্তিরক্ষা মিশনের কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যাপক আবদান রেখেছে। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। দক্ষিণ সুদানের অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরো অবদান রাখবে বলে আমরা আশা করি। তারা এদেশের প্রায় ৫০০ কিলোমিটার চলাচলের অযোগ্য সড়ক উন্নয়ন করে দিয়েছে। জাতিসংঘ মিশনে আগত সকলের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তৈরি করেছে করিমেক ও কুক হাউজ। তারা নিজেদের আরাম আয়েশ ত্যাগ করেই এসব করেছে। এ জন্য আবারও তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এসময় তিনি দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে এসে যেসব বাংলাদেশি মারা গেছেন তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
ম্যাডেল প্যারেড অনুষ্ঠানে আগত বাংলাদেশের কান্ট্রি সিনিয়র সেক্টর কমান্ডার (ইস্ট সেক্টর) ব্রিগেডিয়ার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের পাশাপাশি দক্ষিণ সুদানের মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এদেশের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ড্রেনেজ সমস্যা সমাধানে কাজ করেছি। রাজধানী যুবা শহরে ফুটবল খেলার কয়েকটি মাঠ উন্নয়ন করে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘ মিশনে সোলার লাইট ও সোলার প্যানেল স্থাপন করেছি। আমি বলতে চাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তরিকতা থেকে কাজ করতে পারে, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা সব সময় অনন্য ভূমিকা রাখে।