পূর্বাচলে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আয়োজিত ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ছুটির দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের আগমন শুরু হয়। বিকালে মেলাপ্রাঙ্গণ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তাতে আয়োজক ও বিক্রেতারা খুশি।
এবারের আয়োজনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল, মিনি প্যাভিলিয়ন ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৩৫১টি। মেলায় রেস্তোরাঁ, মসজিদ, মহিলাদের নামাজের স্থান, ব্যাংক, এটিএম বুথ, শিশুপার্ক, হাসপাতাল, মা ও শিশু কেন্দ্র রয়েছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি তুরস্ক, ইরান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা মেলায় নিজেদের পণ্য বিক্রি করছেন। এবার সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ৪০ টাকার পরিবর্তে ৫০টাকা ও ১২ বছরের কম বয়সীদের জন্য ২০ টাকার পরিবর্তে ২৫ টাকা মূল্যের প্রবেশ টিকিট নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, রূপগঞ্জের বিদ্যালয়গুলোর ছাত্র, শিক্ষক, শিক্ষিকা, পরিচালনা কমিটি ও এক জন অভিভাবকসহ ছাত্রীদের বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মেলায় প্রবেশের টিকিট ইজারাদার আবদুল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া এ উদ্যোগ নিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৫৩ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলার অধিকাংশ স্টলে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। পণ্য বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, জুতা, কসমেটিক্সসামগ্রী, পায়জামা, পাঞ্জাবি, টুপি, খাবার দ্রব্য, টেলিভিশন, ফ্রিজ ও কোকারিজসহ নিত্য দিনের পণ্যসামগ্রীর দোকানে ভিড়। মেলা শুরুর পর দ্বিতীয় ছুটির দিন জমে উঠেছে বাণিজ্য মেলা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে শুরু করে। ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থেকে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে আসা গৃহবধূ সুমাইয়া রহমান বলেন, ‘কুড়িল থেকে মেলা পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরণির ব্যবস্থা দেখে বিমোহিত হয়েছি। দৃষ্টিনন্দন যানজটমুক্ত এ সড়কে মেলায় প্রবেশ করে আমরা আনন্দিত। অত্যন্ত সুন্দর ও শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় দিনদিন মেলার প্রসার ঘটবে।’
হোমটেক্সের ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ‘মেলা শুরুর ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগমনে মেলা জমে উঠেছে। এখনো পণ্য বিক্রি তেমন না হলেও এবার ভালো বিক্রি হবে। সেভাবে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’ আরএফএল প্যাভিলিয়ন ইনচার্জ আজিজুর রহমান বলেন, ‘মেলায় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ আমাদের পণ্যের ছাড় দেওয়া হচ্ছে।’ নরসিংদী থেকে আসা গৃহবধূ আকলিমা আক্তার বলেন, ‘মেলার স্টলগুলোতে পণ্যের দাম একটু বেশি। তবে পণ্যগুলো সুন্দর।’
ব্রাদার্স ফার্নিচারের প্যাভিলিয়ন ব্যবস্থাপক শাহদাত হোসাইন বলেন, মালামাল বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে আশানুরূপ নয়। কেনাকাটার চেয়ে মেলাপ্রাঙ্গণ জুড়ে দর্শনার্থীদের পদচারণা বেশি। মেলার ১৫দিন পার হলে ভালো বিক্রি হবে আশা করছেন তিনি।
ঢাকার মিরপুর থেকে সপরিবারে মেলায় আসা আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘মাসব্যাপী আয়োজিত বাণিজ্য মেলায় আমরা তিন-চার বার আসি। প্রথম দিকে ঘুরেফিরে হালকা জিনিসপত্র কিনে থাকি। শেষের দিকে পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা হয়।’
গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে আসা মশিউর রহমান তারেক বলেন, ‘নির্মাণাধীন এশিয়ান সড়ক নামে পরিচিত ঢাকা বাইপাস সড়কের বেহাল দশার কারণে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ মেলায় আসতে ভোগান্তিতে পড়ছে। সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।’ ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য কুড়িল বিশ্বরোডসহ বেশ কয়েকটি স্থান থেকে মেলাপ্রাঙ্গণ পর্যন্ত বিআরটিসি বাস চলাচল করছে।