জমি দখলসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের অবাঞ্ছিত সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান লিটনকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তার অনুসারীরা।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর এলাকা থেকে মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিল নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এতে বিভিন্ন হলের দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয়।
মিছিল চলাকালে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান লিটনকে ক্যাম্পাস ছাড়া করার দাবি জানায়। তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ফটকে পাল্টা অবস্থান নেন লিটনের হলের নেতাকর্মীরা। এ সময় দুপক্ষের মধ্যেই পালটা স্লোগান ও কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজ বিনিময় হয়। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি লিটনের বিরুদ্ধে হল কমিটি দিতে ব্যর্থতা, কর্মীদের সময় না দিয়ে জমি দখলে মনোনিবেশ ও অন্য হলের নেতাকর্মীর সঙ্গে অশোভন আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ছয় হলের তার অনুসারীরা। এরপর থেকে ক্যাম্পাসের রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন লিটন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ২৭ জানুয়ারি উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্তের জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে ১০ দিনের সময় বেঁধে দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তবে তদন্ত চলমান অবস্থায় গতকাল বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা ও শেখ রাসেল হল ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জানান, হল কমিটি গঠন করতে হলে সিনিয়র নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করতে হয়। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো আলোচনা ছাড়াই দুই হলের কমিটি গঠন করেছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ও ক্যাম্পাসের রাজনীতি সচল রয়েছে বোঝাতে কোনো আলোচনা ছাড়াই হুটহাট দুই হলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কর্মকান্ডের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নিজের অপকর্মগুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেলিন মাহবুব বলেন, ‘অবাঞ্ছিত সাধারণ সম্পাদক কীভাবে হল কমিটি দেয়, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এ ছাড়া আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই দু’টি হল কমিটি দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে অবাঞ্ছিত হাবিবুর রহমান লিটনকে ক্যাম্পাস ছাড়তে হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহ-সভাপতি বলেন, ‘আমরাও হল কমিটি চাই। তবে তদন্ত চলাকালীন সময়ে অবাঞ্ছিত সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত কমিটি মেনে নিবো না। হাবিবুর রহমান লিটন স্থানীয় হওয়ায় ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ অনেক অপকর্মের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের তদন্তের ফলাফল নিজের পক্ষে আনতে কমিটিকে উপঢৌকন দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ বিষয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ দেখবে। এ ক্ষেত্রে আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারি না। ইতিমধ্যে আমি ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে জানিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য আমরা সর্বদা তৎপর রয়েছি।’