বিশ্ব পরিবেশনায় নজর দিচ্ছে দেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা-প্রযোজকরা

তানভীর তারেক

 

নিউইয়র্কে জয়া আহসান অভিনীত কলকাতার ছবি ‘কণ্ঠ’র প্রিমিয়ার চলছে। এর উদ্যোক্তা একজন বাংলাদেশি। বায়োস্কোপ ফিল্মসের রাজ হামিদ। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম বায়োস্কোপ ফিল্মস। বর্তমানে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ব্যবসাসফল অবস্থানে টিকিয়ে রাখার যে প্রাণান্ত সংগ্রাম চলছে, কী করলে কী হবে, কিভাবে বাংলাদেশি ছবি বানিয়ে লগ্নি উঠিয়ে আনা সম্ভব তার বেশ ক’টি ফরমূলা প্রস্তাবিত হয়েছে পরিচালক-প্রযোজকদের মাধ্যমে। এর ভেতরে দেশের ৩০০টি আসনের জন্য ৩০০টি সিনেপ্লেক্সের আন্দোলন শুরু করেছেন পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। এছাড়াও প্রশাসনের সহায়তায় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিসহ প্রযোজকদের সমন্বয়ে চলচ্চিত্রের পাইরেসিও এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত।

সর্বশেষ শাকিব খান প্রযোজিত ছবি ‘পাসওয়ার্ড’ ব্যবসাসফল হলেও এ রকম ব্যয়বহুল ছবি আরো বাণিজ্য করবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।  কারণ বিশ্ব চলচ্চিত্র পরিবেশকরা হাঁটছে এখন ভিন্নপথে। সেখানে বাংলাদেশ কতটুকু এগিয়ে? বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অগণিত বাঙালি ও বিদেশি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মাঝে চলচ্চিত্র ছড়িয়ে না দিতে পারলে ছবি বাজেট নিয়ে যে সঙ্কট চলছে তা চলতেই থাকবে। 

বাজেট সঙ্কট শব্দটিও অযৌক্তিক। এর কারণ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা অনন্য মামুন বলেন, ‘দেখুন, গত ঈদে আমার নির্মিত আবার বসন্ত ছবিটি নিয়ে আমরা কিন্তু দারুণভাবে আশাবাদী ছিলাম। অনেকেই এই ছবিটিকে ছোট বাজেটের বা অল্প বাজেটের ছবি বলছেন। কিন্তু আমার গল্প সুন্দরভাবে চিত্রায়ণ করতে ঠিক যতটুকু বাজেট প্রয়োজন, সেটুকুই তো আমি খরচ করবো। আমরা কিন্তু সেই বাজেট অনুযায়ীই ছবিটি নির্মাণ করেছি। সুতরাং এ ধরনের কথা বলাটা মূর্খতা বলে মনে করি। কারণ এখন চলচ্চিত্র থেকে আয়ের পথ শুধু সিনেমা হল নয়,  বিভিন্ন মুভি অ্যাপসসহ দেশের বাইরের বিভিন্ন হলে প্রদর্শনী। সেদিকেই আমাদের নজর দিতে হবে।’ ‘অজ্ঞাতনামা’ বা ‘কমলা রকেট’ চলচ্চিত্র দুটি অল্প বাজেট বা বেশি বাজেটের আলোচনায় আলোচিত হয়নি। বরং ছবির গুণেই ছবি দুটি বিশ্ব পরিবেশনার সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম নেটফ্লিক্সে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এদিকে বেশকিছু সংস্থা বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকে দেশের বাইরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করলেও এখন অবধি হাতেগোনা দু-একটি চলচ্চিত্র ছাড়া খুব বেশি কেউ বিদেশি চলচ্চিত্র থেকে তেমন একটা আয় করতে পারেনি। সর্বশেষ জয়া অভিনীত ও প্রযোজিত ‘দেবী’ চলচ্চিত্রটি দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনের মাধ্যমে একটা ভালো অঙ্কের আয় করেছে। যা অনেককেই স্বপ্ন দেখিয়েছে। এ প্রসঙ্গে দেবী ছবিটির যুক্তরাষ্ট্র পরিবেশক রাজ হামিদ বলেন, ‘দেখুন সব ছবিই সবসময় সমান ব্যবসা কোনোদিনই করে না। তবে দেবী ক্লিক করেছে। এখন প্রত্যেক চলচ্চিত্র প্রযোজকের উচিত হবে তাঁদের চলচ্চিত্র নিয়ে দেশের বাইরের বিভিন্ন সিনেমা হলে মুভ করা। এর জন্য প্রকৃত মানুষকে নক করতে হবে তাঁদের। আর এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরবেই। এরই ভেতরে কলকাতার ছবি নির্মাতা ও প্রযোজকরা কিন্তু তাঁদের এই উদ্যোগ ও উদ্যোম চালু রেখেছে। তাঁরা এখন অনেকেই ছবি নির্মাণ শুরুর আগেই ফোন দিয়ে আমাদের কাছে পরামর্শ চান।’ উল্লেখ্য, ঈদের আগে শাকিব খানের যে কথাটি ট্রল হয়েছিল সেটিও ইন্টারন্যাশনাল ছবিকে ঘিরেই। তবে হয়তো ভুল ব্যাখ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ভাইরাল হয়েছে। এছাড়া এবার নতুন ৪টি চলচ্চিত্র নির্মাণের ঘোষণা প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, ‘আমি ছবি ব্যবসার ধারা বদলে দিতে চাই। কারণ আমার ছবি তো শুধু বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য নয়, সারাবিশ্ব বাঙালিদের জন্য। শুধু তাঁদের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়াটাই জরুরি।’ তাই চলচ্চিত্রের এই সঙ্কটে এখন প্রয়োজন ছবি লগ্নির পাশাপাশি তা উঠিয়ে আনার জন্য দক্ষ বিপণন নীতির বাস্তবায়ন। উল্লেখ্য, এখনো বাংলাদেশে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির শতকরা ৮০ ভাগ চলচ্চিত্রই দেশের বাইরে বাণিজ্যিক প্রদর্শনী হয় না। অনেক প্রযোজক জানেনই না কার মাধ্যমে, কিভাবে গেলে নিজেদের ছবির বাণিজ্যিক প্রদর্শন সম্ভব। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত আধুনিকতার সঙ্গে এই বিশ্ব পরিবেশনায় অংশ নেবে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র এটাই সকলের প্রত্যাশা।