ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়, খুশি বিক্রেতা

শীতের প্রকোপ কিছুটা কমেছে। কুয়াশা শৈত্যপ্রবাহ নেই। এ সুযোগে গতকাল শনিবার পূর্বাচলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। তাদের মধ্যে উত্সবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে শুরু হয়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দর্শনার্থীদের সংখ্যা। অবস্থা এমন হয় যে, ভিড় সামলাতে স্টলের দায়িত্বরত কর্মী ও মেলায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবেং স্বেচ্ছাসেবকদের হিমশিম খেতে হয়।

গতকাল ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের বিপুল আগমনে বিক্রেতা ও মেলার আয়োজকরা খুশি। মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, আনসার সদস্যদের পাশাপাশি প্রবেশ টিকিটের ইজারাদারের পক্ষে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় দুই শতাধিক লোক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, গতকাল মেলায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন। তারা ঘুরে ঘুরে পছন্দের জিনিসপত্র দেখছেন। কেউ কিনছেন। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় এতটাই ছিল যে, খাবার দোকানে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিরব সরকার সপরিবারে মেলায় এসেছেন। তিনি বলেন, মেলার পরিসর আগের চেয়ে পরিকল্পিত, সুন্দর ও নান্দনিক। এ পরিবেশে ভালো লাগছে। তবে খাবার মান ও মূল্য নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি কসমেটিকস, ইমিটেশনের গহনা, শালসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম একটু বেশি বলে তাদের অভিযোগ।

মেলায় টপসের দিকে কিশোরীদের আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। কাপড়ের রং, বুনন, সুতা দেখে অনেকে তা ক্রয় করছে। ছুটির দিন ছাড়া মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি থাকে কম। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের লোকজ মেলা আর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া একুশে বই মেলার প্রভাব পড়তে পারে বাণিজ্য মেলায়। এবারের বাণিজ্য মেলাকে অনেক ক্রেতা পবিত্র ঈদ উল ফিতরের কেনাকাটার জন্য টার্গেট করেছেন বলে জানা গেছে।

টাঙ্গাইল মধুপুর থেকে সপরিবারে আসা এক গৃহবধূ বলেন, দুই ঘণ্টার পথ যানযটের কারণে চার ঘণ্টায় মেলায় এসেছি। যানজটে পড়ে গাড়িতেই মেলার আনন্দ শেষ হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরা ক্লান্ত হয়ে মেলায় প্রবেশ করেছে। ঢাকা বাইপাস সড়কের যানজট নিরসন করতে না পারলে মেলায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

ঢাকার শান্তিনগর থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ৩০০ ফুট সড়ক নামে পরিচিত শেখ হাসিনা সরণিতে যনজট না থাকায় ১৪/১৫ মিনিটে কুড়িল থেকে মেলায় আসতে পেরেছি। শেখ হাসিনা সরণিটি নয়নাভিরাম ও মনোমুগ্ধকর। মেলায় প্রবেশ টিকিটের ইজারাদার ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মো. ছালাউদ্দিন ভূইয়া বলেন, প্রতিদিনই মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে প্রতাশ্যা অনুুযায়ী এখনো মেলায় দর্শনার্থী আসে নাই বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর-ইপিবি সচিব বিবেক সরকার বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় শুক্র ও শনিবার মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সমাগম বেড়েছে। এবার বাণিজ্য মেলা ব্যবসা সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।