ইশতেহারে তরুণদের মূল চাওয়া চাকরি

একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মোট ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ। তার মধ্যে তরুণ ভোটারের সংখ্যা ২ কোটি ৩০ লাখ। এদের মধ্যে আবার ২১ লাখ ৭৭ হাজার ২১৪ জন একেবারেই নতুন। অর্থাত্ মোট ভোটারের ২০ শতাংশই হলো তরুণ। তাই তাদেরকে মনোযোগ আকর্ষণ করাই যেন রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আলোচ্য বিষয় হলো আসন্ন নির্বাচনে তরুণদের প্রত্যাশা কি? আধুনিক যুগের সচেতন তরুণ অবশ্যই একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাসমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ তারা দেখতে চায়। এখানে তরুণদের কাছে যেমনি প্রত্যাশা আছে তেমনি তরুণদেরও কিছু প্রত্যাশা আছে।

বর্তমান বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট ভোগ করছে। অর্থাত্ দেশের ৬৫ শতাংশ লোকজন কর্মশীল আর মাত্র ৩৫ শতাংশ মানুষ নির্ভরশীল। তাই এ বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হবে। আবার তরুণদেরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশ গঠনে কাজ করতে হবে। বেকারত্ব আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা। আবার দিন দিন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। আশার কথা হলো, তরুণরা বর্তমানে চাকরি করার চেয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার দিকে বেশি ঝুঁকছে। তবে তারা উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন জটিলতা ও পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব তাদের উদ্যোগ গ্রহণের পথকে কন্টকাকীর্ণ করে  তুলছে। সরকারি আমলারা গাড়ি কেনার জন্যে বিনা সুদে ঋণ পেলেও তরুণরা উদ্যোগ গ্রহণের জন্যে সে ধরনের কোনো সুযোগ পাচ্ছে না। তাই আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা থাকবে যে, আগামী সরকার তাদের উদ্যোগ গ্রহণের পথকে আরো সম্প্রসারণ এবং প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিবে।  

বর্তমান বাংলাদেশের তরুণ অনেক সচেতন, অসাম্প্রদায়িক এবং সমতায় বিশ্বাসী। তাই নির্বাচনী ইশতেহারে তারা নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের অধিকারের নিশ্চয়তা দেখতে চায়। তরুণরা বিগত বছরগুলোতে লক্ষ্য করেছে, সকল উন্নয়ন হয়েছে রাজধানী ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক । তাই তরুণ সমাজ সকল জেলায় সমানভাবে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি সম্বলিত ইশতেহার বেশি পছন্দ করবে। 

এ বৃহত্ যুব সমাজ এমন নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিবে, যেখানে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, প্রশ্ন ফাঁস রোধ ও শিক্ষাখাতে অধিক সচ্ছতা আনয়নের নিশ্চয়তা থাকবে। তাছাড়া তাদেরকে শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তরুণদেরকে টানতে হলে অবশ্যই সুষ্ঠু ছাত্র রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম সব সময় সংস্কৃতিমনা। তাই সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর। সর্বপরি, একথা স্মরণ রাখতে হবে যে, তরুণরা কখনো বিবেচনাহীনভাবে ভোট দিবে না। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা এবং কর্মীদের আচার-আচরণও তাদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। একটি সুন্দর-সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তরুণরা নির্বাচিত করবে তাদের পছন্দের সরকারকে। এগিয়ে যাবে তারুণ্য, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়