মধুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
শাহ্ মো. ফারুক হোসেন, মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
৩১ শয্যা মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১৯৯৬ সালে নির্মিত হয়। ২০১৫ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। বর্তমানে ৩১ শয্যার ব্যবস্থায় চলছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। ১৯ জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও মাত্র দুইজন চিকিত্সক দিয়ে বর্তমানে চলছে চিকিত্সাসেবা।
মধুখালী হাসপাতালটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন অবস্থিত হওয়ায় রোগীর সংখ্যা সব সময় বেশি থাকে। যে কোনো সড়ক দুর্ঘটনাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার তিন লক্ষাধিক জনগণের জন্য একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও তিনটি সাব-সেন্টার রয়েছে এ উপজেলায়। এ ছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার কর্মরত আছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডা. সাহানা আক্তার বিথি ফরিদপুর শহরে অবস্থানের কারণে শহরে চেম্বারে রোগী দেখেন আর মধুখালীতে সপ্তাহে দুই থেকে তিন অফিস করেন। আবার কোনো সপ্তাহে আসেনও না। ফলে সাধারণ রোগীরা এলাকার পল্লি চিকিত্সক বা শহরে গিয়ে চিকিত্সাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বেশিরভাগ রোগীরা আর্থিক সংকটে দূরে গিয়ে চিকিত্সাসেবা নিতেও পারছেন না।
ডা. সাহানা আক্তার বিথি জানান, আমি নিয়মিতই হাসপাতালে বসি এবং রোগী দেখি।
এদিকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিত্সার জন্য প্রতিদিনই জেলা শহরে নেওয়ার জন্য হাসপাতালের পুরাতন অ্যাম্বুলেন্সটি দিয়েই চলছে রোগী বহনে। সেটি যে কোনো সময় বিকল হতে পারে বলে ধারণা করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খালিদ আহম্মেদ সাইফুল্লাহ জানান, ৩১ শয্যা ব্যবস্থায় হাসপাতালটিতে মেডিসিন, অর্থোপেডিকস, শিশু রোগ ও গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞসহ কার্ডিওলজি, চক্ষু ও অ্যানেসথেসিয়াসহ ১৯জন চিকিত্সকের স্থলে মাত্র দুইজন চিকিত্সক আছেন। এর মধ্যে আবার একজন আবাসিক চিকিত্সকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ট্রেনিং ও বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে জেলা, বিভাগ ও ঢাকা যেতে হয় চিকিত্সকদের। তখন হাসপাতাল থাকে প্রায়ই চিকিত্সক শূন্য। নার্স পদে ১১ জনের সকলে থাকায় কিছু সুবিধা আছে। ডেনটিস্ট চিকিত্সক হিসেবে একজন কাজ করছেন। আয়া, ওয়ার্ড বয়, নাইট গার্ড, ঝাড়ুদার, কুক এবং ইলেকট্রিশিয়ান পদে কোনো লোক নেই সব পদই শূন্য। ভবন আছে ওষুধ আছে রয়েছে ডাক্তার ও জনবল সংকট। মন্ত্রণালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনুমোদন নেই। যে কারণে নতুন ৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হচ্ছে না।
বর্তমানে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডাক্তারসহ প্রায় ২৪টি পদ শূন্য রয়েছে। আউটসোর্সিং ও বিভিন্ন পন্থায় আউটডোরও ফার্মেসি বিভাগে কিছু লোক দিয়ে জোড়াতালি অবস্থায় চলছে হাসপাতালটির কার্যক্রম। প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় দুই শতাধিক রোগী চিকিত্সা নিতে আসেন। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধও রয়েছে। কিন্তু ডাক্তার সংকট থাকায় রোগীদের সাময়িক একটু অসুবিধা হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয়ে ও অধিদপ্তরে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে তিনি আশা করেন।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, জনবল সংকট শুধু মধুখালীতে নয় গোটা ফরিদপুর জেলার সকল হাসপাতালের সমস্যা। যেখানে সারা জেলার ২২৯জন চিকিত্সক থাকার কথা সেখানে আছে মাত্র ৯০ জন চিকিত্সক। অর্থাত্ ৬০ ভাগ জনবল নেই।