এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচ ও সিরিজ জিতেছিলেন। আবার এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এই বছরেই মাথাটা একেবারে মাটির সাথে মিশে গিয়েছিল অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের। অবশেষে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জবাবটা দেওয়া গেছে। হোয়াইট ওয়াশের পাল্টা হোয়াইট ওয়াশ করা গেছে তাদের।
গতকাল কোনো দলের বিপক্ষে ক্যারিবীয়দের হোয়াইট ওয়াশ নিশ্চিত করার পর বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলছিলেন, গত সিরিজে অমন বাজে পারফরম্যান্সের পর এমন কিছু করেই নিজেদের প্রমাণ করার দরকার ছিল, ‘ওরা ওদের হোমের অ্যাডভান্টেজট নিতে পেরেছে, আমরা আমাদের হোমের অ্যাডভান্টেজটটা নিতে পেরেছি। তবে ওভাবে হারার পর আমাদের অবশ্যই অনেক কিছু প্রুভ করার ছিল। অ্যাট লিস্ট হোমে, সেটা আমরা করতে পেরেছি।’
এই প্রথম বাংলাদেশ কোনো দলের বিপক্ষে ইনিংসে জিতলো। সাকিব বলছিলেন, সব দিক থেকেই এটা অনেক বড় একটা অর্জন, ‘দেখুন আমরা একশ’র ওপরে টেস্ট ম্যাচ খেলেছি। এই প্রথম এমন কিছু করলাম। ১৮ বছরের মত টেস্ট খেলেছি, একশ’ টেস্টের মত খেলেছি। এই ফার্স্ট টাইম এরকম কিছু হলো। এর ভেতরে আমরা কিন্তু ছোট টিমের সাথেও খেলেছি। তারপরও আমরা এমন কিছু করতে পারিনি। ফলে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা অ্যাচিভমেন্ট আমি মনেকরি।’
এই সিরিজটা খেলেছেন সাকিব ইনজুরি থেকে মাত্রই ফিরে। এমনকি প্রথম টেস্টের আগে পুরো ফিটও ছিলেন না। কোচকে কৃতিত্ব দিলেন এই সময়ে ফেরার জন্য, ‘সত্যি কথা বলতে, প্রথম টেস্টটা আমি খেলতে চাইনি। একমাত্র কোচের কারণেই খেলাটা হয়েছে। আমি কখনই খেলতাম না। আমাকে যতবার বলেছে, আমি বলেছি আমি পারবো না। কারণ আমার ঐ বিশ্বাসই ছিল না। আপনারা যদি আমার বোলিং দেখেন, আমি তিন-চার ওভারের স্পেল করেছি। কারণ আমার শরীরের অবস্থাই ওই রকম ছিল না। কিন্তু ও যেটা বলেছে যে, তুমি ম্যাচ খেলেই ফিট হতে পারবা। আমার মনে হয়, আমি একমাত্র প্লেয়ার ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটে যে ম্যাচ খেলে ফিট হই।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটু কঠিন উইকেট বানিয়ে এই জেতার কৌশলকে যথার্থ বলে সাকিব বলছিলেন, ‘আগে ফ্ল্যাট উইকেট বানিয়ে ৫০০ রান করে ড্র করার চেষ্টা করা হতো। এখন সেটা আমরা করি না। আমরা এখন প্রতিটা ম্যাচ জেতার চেষ্টা করি। সেটা আমরা দেশের বাইরে যাই আর ঘরের মাঠে। আমাদের চিন্তার যেই পরিবর্তন এটা আমাদের ক্রিকেটকে যে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে তার প্রমাণ।’
সাকিব বলছিলেন, এখন এরকম স্পিন নির্ভর বল করার মতো বোলারও তাদের হাতে আছে বলেই এসব কৌশল তারা নিতে পারছেন, ‘অবশ্যই আমরা খুবই ভালো বোলিং করছি। এর দুইটা কারণ আছে। একটা হচ্ছে, আমাদের এখন যথেষ্ট মানসম্পন্ন বোলার আছে। দ্বিতীয়টা হচ্ছে আমরা স্পিনারদের সহায়তা করার মতো তেমন উইকেটও পাচ্ছি। দুইটার সমন্বয়ে বিশেষ করে দেশের মাটিতে আমাদের মারাত্মক একটা স্পিন আক্রমণ আছে এখন। আমি মনেকরি যে কোনো দলের বিপক্ষে আমরা খুব ভালো কিছু করতে পারবো।’
স্কোর কার্ড
ভেন্যু : মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম
টস : বাংলাদেশ
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ১৫৪ ওভারে ৫০৮/১০
ওয়েস্টইন্ডিজ প্রথম ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
ব্রাথওয়েট বোল্ড ব সাকিব ০ ৬ ০ ০
পাওয়েল বোল্ড মিরাজ ৪ ১৫ ০ ০
হোপ বোল্ড মিরাজ ১০ ৩০ ১ ০
অ্যামব্রিস বোল্ড সাকিব ৭ ১২ ১ ০
চেজ বোল্ড মিরাজ ০ ১ ০ ০
হেটমায়ার ক এন্ড ব মিরাজ ৩৯ ৫৩ ৩ ১
ডওরিচ এলবিডব্লু ব মিরাজ ৩৭ ৭৫ ৩ ০
বিশু ক সাদমান ব মিরাজ ১ ১০ ০ ০
রোচ ক লিটন ব মিরাজ ১ ৫ ০ ০
ওয়ারিকান অপরাজিত ৫ ৮ ০ ০
লুইস এলবিডব্লু ব সাকিব ০ ৫ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-৪, লে বা-৩) ৭
মোট: ৩৬.৪ ওভারে ১১১/১০
বাংলাদেশ বোলিং :
সাকিব আল হাসান : ১৫.৪-৪-২৭-৩, মেহেদি হাসান মিরাজ : ১৬-১-৫৮-৭, নাইম হাসান : ৩-০-৯-০, তাইজুল ইসলাম : ১-০-১০-০, মাহমুদুল্লাহ : ১-১-০-০।
ওয়েস্টইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস (ফলো-অন) :
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
ব্রাথওয়েট এলবিডব্লু সাকিব ১ ৪ ০ ০
পাওয়েল স্ট্যা. মুশফিক ব মিরাজ ৬ ১০ ০ ০
হোপ ক সাকিব ব মিরাজ ২৫ ৭৫ ০ ০
অ্যামব্রিস এলবিডব্লু ব তাইজুল ৪ ২০ ০ ০
চেজ ক মোমিনুল ব তাইজুল ৩ ৯ ০ ০
হেটমায়ার ক মিথুন ব মিরাজ ৯৩ ৯২ ১ ৯
ডওরিচ ক সৌম্য ব নাঈম ৩ ১৮ ০ ০
বিশু ক সৌম্য ব মিরাজ ১২ ৩১ ০ ০
রোচ অপরাজিত ৩৭ ৪৯ ৭ ০
ওয়ারিকান ক এন্ড ব মিরাজ ০ ৫ ০ ০
লুইস এলবিডব্লু ব তাইজুল ২০ ৪৩ ২ ০
অতিরিক্ত (বা-৬, লে বা-৩) ৯
মোট: ৫৯.২ ওভারে ২১৩/১০
বাংলাদেশ বোলিং :
সাকিব আল হাসান : ১৪-৩-৬৫-১, মেহেদি হাসান মিরাজ : ২০-২-৫৯-৫, তাইজুল ইসলাম : ১০.২-১-৪০-৩, মাহমুদুল্লাহ : ১-০-৬-০, নাইম হাসান : ১৪-২-৩৪-১।
ফল : বাংলাদেশ ইনিংস ও ১৮৪ রানে জয়ী।
সিরিজ : দুই ম্যাচ সিরিজ বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : মেহেদি হাসান মিরাজ (বাংলাদেশ)।
সিরিজ সেরা : সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)।
বাংলাদেশের ম্যাচসেরা বোলিং
ফিগার বোলার প্রতিপক্ষ সাল ভেন্যু
১২-১১৭ মেহেদী হাসান মিরাজ উইন্ডিজ ২০১৮ ঢাকা
১২-১৫৯ মেহেদী হাসান মিরাজ ইংল্যান্ড ২০১৬ ঢাকা
১২-২০০ এনামুল হক জুনিয়র জিম্বাবুয়ে ২০০৫ ঢাকা
১১-১৭০ তাইজুল ইসলাম জিম্বাবুয়ে ২০১৮ সিলেট
১০-১২৪ সাকিব আল হাসান জিম্বাবুয়ে ২০১৪ খুলনা
১০-১৫৩ সাকিব আল হাসান অস্ট্রেলিয়া ২০১৭ ঢাকা
বাংলাদেশের ইনিংসেরা বোলিং
ফিগার বোলার প্রতিপক্ষ সাল ভেন্যু
৮-৩৯ তাইজুল ইসলাম জিম্বাবুয়ে ২০১৪ ঢাকা
৭-৩৬ সাকিব আল হাসান নিউজিল্যান্ড ২০০৮ চট্টগ্রাম
৭-৫৮ মেহেদী হাসান মিরাজ উইন্ডিজ ২০১৮ ঢাকা
৭-৯৫ এনামুল হক জুনিয়র জিম্বাবুয়ে ২০০৫ ঢাকা