অস্ট্রেলিয়া-ভারতকে এগিয়ে রাখছেন লয়েড

যদিও বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল স্বাগতিক ইংল্যান্ড; কিন্তু গ্রুপপর্বের এই শেষ দিকে এসে দেখা যাচ্ছে—পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। এই দুইটি দলই সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

দুই বারের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড বলছেন, তার কাছে বিশ্বকাপে ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকেই কেবল শক্ত দল বলে মনে হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া তাদের একমাত্র ম্যাচটি হেরেছে ভারতের বিপক্ষে। টানা জয়ে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে তারা। আর মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। এই দুইটি দল সম্পর্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অধিনায়ক লয়েড বলছিলেন, ‘আমার কাছে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী দুইটি দল তারা। তারা এই কন্ডিশনকে যে কারো চেয়ে ভালো বুঝতে পেরেছে।’ তবে এর মধ্যে ভারতের কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে গেছে বলে বলছিলেন ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক লয়েড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১ রানে হারা ম্যাচে ভারতের দুর্বলতাটা সামনে চলে এসেছে বলে তিনি বলছিলেন, ‘ইংল্যান্ড ওদের বিপক্ষে সঠিক ধরনের খেলাটা খেলেছে। তারা (ইংল্যান্ড) স্পিনারদের সঠিক সময়ে আক্রমণ করেছে। তাদের (ভারতের) এখন লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিংটা আরো শক্তিশালী করতে হবে।’

৭৪ বছর বয়সি ক্লাইভ লয়েড নিজের সময়ে খুব আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ছিলেন। আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে এটা খুব জরুরি একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোয়ার অর্ডারে এরকম ব্যাটসম্যানদের প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা আছে। সে জন্য অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ক্যারির প্রশংসা করছিলেন তিনি।

ক্যারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পথে ৭১ রানের একটা ইনিংস খেলেছেন। তার কথা বলতে গিয়ে লয়েড বলছিলেন, ‘ক্যারি এর আগে তুলনামূলকভাবে ব্যাটিংয়ের জন্য তত পরিচিত ছিল না। তার আক্রমণ করার স্বাধীনতাটা আছে। সেই সঙ্গে তার সীমানা খুঁজে পাওয়ার মতো টেকনিক্যাল স্কিলও আছে। এরপর খেলোয়াড়ের খেলা দেখতে আমি পছন্দ করি।’

লয়েডের নিজের উত্তরসূরিদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে পারেন। এর মধ্যে নিকোলাস পুরান অমন পালটা আক্রমণ করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ জিতানোর কাছে চলে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পুরান জয় আনতে না পারলেও নজর কেড়েছেন লয়েডের, ‘সে এই টুর্নামেন্ট জুড়েই দারুণ ব্যাটিং করছে। সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে কেন্দ্র করে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারব।’