‘মানুষখেকো মানুষ’ বইয়ের পাঠ প্রতিক্রিয়া

শিক্ষক যেমন আলোকবর্তিকা তেমনই কেউ কেউ যে আবার সমাজের অভিশাপও হতে পারেন, ‘মানুষখেকো মানুষ’ বইটির নাম গল্পটিতে লেখিকা তা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। ভালোবাসা কত তুমুল, ক্ষ্যাপা আর প্রগাঢ় তা ‌‘ভালোবাসা’ কথাটি ছাড়াই ‘মুনার অপেক্ষা’ গল্পে প্রমাণ মেলে। 

চরিত্রের মুখে লেখক, জামার রং মিষ্টি কালার হলে টক কালার কেন হবে না, আর কফি কালার হলে শরবত কালার কেন হবে না—এর মতো সংলাপ গুঁজে দিয়ে হাস্যরসের সঙ্গে পাঠকের চিন্তার পরিসর প্রসারিত করার সুযোগ দিয়েছেন। 

‘জীবন যেখানে যেমন’ পড়লে আমার মতো যে কেউ খেয়ালের অগোচরেই স্মৃতি রোমন্থনে প্রবেশ করে নির্ঘাত নস্টালজিক হয়ে যাবে। আমরা অতিক্রান্ত সময়ে পূর্বের সুখ বা সময়কে অনুধাবন করি আর উপমা পেয়ে ব্যথিত হই। এমনই অনবদ্য এই গল্পের বিষয়বস্তু। 

অন্যদিকে তাবলীগে তাবলীগে ঘুরে বেড়ান মামুন সাহেব। ভদ্রলোক অত্যন্ত ধর্মীয়মনস্ক মানুষ। তিনি কর্মে বা তাবলীগে যেখানেই যান, সেখানেই একটা করে বিয়ে করেন। বিয়ে সম্পাদনে সহযোগিতা করেন তাবলীগের অন্য জামাতি ভাইয়েরা। আর কিছুদিন ব্যবহারপূর্বক সর্বশেষ বউকে আচমকা তালাক দেন। একেকটা মানবীকে ফেলে দেন সুবিশাল সাগরের ঠিক মাঝখানটায়। ধর্মকে পুঁজি করে অপকর্ম করে বেড়ানো—এইসব মামুন সাহেবদেরই একটা গল্প ‘হিল্লা বিয়ে’। অসম্ভব অর্থবহ, প্রাসঙ্গিক এবং অবশ্যপাঠ্য এই গল্পটির নামে বইটির নামকরণ করলেও মন্দ হতো না।

শাহনাজ পারভীন রচিত ‘মানুষখেকো মানুষ’ গ্রন্থটিতে ১৮টি গল্প রয়েছে। ‘লেডি বাইকারে’র মতো গল্প পড়ার পর শেষ হয়েও যেন হইলো না শেষ মনে না হলেও ভাবার্থের দিক থেকে গল্পটি ঢের উচ্চমার্গীয়। এতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা কখনো কখনো কেমন নিগ্রহের স্বীকার, আর তাদের কীভাবে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হয়—সেই দৃষ্টান্তই দেখিয়েছেন। বইটি পাঠ করলে—সমাজকে নিগূঢ় পর্যবেক্ষণপূর্বক লেখকের তুলে ধরা অসঙ্গতি, অন্যায়, পরণাম এবং পরিণয় অবলোকন সহজ হবে। অন্ধ মোহের জায়গায় আঘাত ও বোধকেও নাড়া দিবে বইটির বেশকিছু গল্প।