রাজধানীর বাড্ডার পূর্ব সাঁতারকূল এলাকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রমজান (৩৭) নামে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত রমজান বাড্ডার শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদী হাসানের ডান হাত বলে পরিচিত। বাড্ডার সাঁতারকূল এলাকার শেখ পিরু সরণিতে তার বাড়ি। তার বিরুদ্ধে বাড্ডা ও ভাটারা থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। বাড্ডার চারজন হত্যা মামলার (ফোর মার্ডার) অন্যতম আসামি ছিলেন এই রমজান।
ডিবির উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, গত বছরের ১৬ জুন বাড্ডায় আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ খুনের সঙ্গে রমজানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমেরিকায় আত্মগোপন করা শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর সঙ্গে রমজানের যোগাযোগ হতো। এছাড়া, কাওরানবাজারের শীর্ষ সন্ত্রাসী ভারতে আত্মগোপন করা আশিকের সঙ্গেও রমজানের যোগাযোগ ছিল। আফতাবনগর পশুরহাটের চাঁদাবাজি এবং বাড্ডা এলাকার ডিশ ব্যবসার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রক ছিল রমজান। তাকে ডিবি পুলিশ দীর্ঘ দিন ধরে খুঁজছিল। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পূর্ব সাঁতারকূলের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের পেছনে একটি খালি মাঠে ডিবি পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় রমজানের সহযোগীদের সঙ্গে ডিবি পুলিশের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রমজানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সকরা মৃত ঘোষণা করেন। ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, এক রাউন্ড গুলি এবং কয়েক পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে।
ডিবি পুলিশ আরো জানায়, গত বছরে জুন মাসে আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ আলীকে গুলি করে হত্যার পর তার বড় ছেলে এ ঘটনার প্রতিবাদ করে। এরপর থেকে ফরহাদ আলীর পরিবারকে অব্যাহতভাবে হুমকি দিতে থাকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এক সপ্তাহ আগে ফরহাদ আলীর এক ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করে রমজানের সহযোগীরা। এই পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পর ফরহাদ আলীর বাড়িতে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এরপরই গতকাল বুধবার ভোরে ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে রমজান নিহত হয়।