ড্রেসিংরুমে শীতলকে নিয়ে উচ্ছ্বাস

এক জয়ে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনালের পথ উজ্জ্বল করে ফেলল ফেডারেশন কাপ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। ২-১ গোলে মুক্তিযোদ্ধাকে হারিয়ে আবাহনী গ্রুপ পর্বে শীর্ষে। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সব আলো কেড়ে নিলেন নতুন এক অখ্যাত ফুটবলার ফয়সাল আহমেদ শীতল। তারই জোড়া গোলে আবাহনী দুর্দান্ত একটি জয় পেয়েছে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম খেলায়।

জোড়া গোল অনেকেরই আছে। কিন্তু শীতল নিয়েই কেন এত কথা? কারণ আবাহনীর ড্রেসিং রুমে গিয়ে দেখা গেল এই শীতলকে নিয়েই যত উচ্ছ্বাস। আলোচনার বাইরে থাকা এই ফুটবলার কাল মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করেছেন এক মিনিট ব্যবধানে। আর তাতেই তিনি হয়ে গেলেন আলোচনার মধ্যমণি। আবাহনীর ড্রেসিং রুমে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা শীতলকে নিয়ে সেকি উচ্ছ্বাস করছিলেন। সানডে খেলতে পারেননি ইনজুরির কারণে তারপরও হাসি আনন্দ দেখে মনে হলো শীতলের সবচেয়ে বড় বন্ধু। বন্ধু না হয়েও সিনিয়র ফুটবলার মানুনুল ইসলামও উচ্ছ্বাস করলেন শীতলকে উত্সাহ দেওয়ার জন্য।

আবাহনীর ড্রেসিং রুমে শীতলকে নিয়ে উচ্ছ্বাস বাইরে চলে এলো। ডাক পড়ল শীতলের। ফেডারেশন কাপে ৬ গোল করা সানডে বলছিলেন, ‘শীতল ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার পাবে। ও দারুণ একটি কাজ করে দেখিয়েছে।’ খেলোয়াড়দের অভিনন্দনে ভাসছিলেন ফয়সাল আহমেদ শীতল।

আবাহনীর সাত ফুটবলার মাঠের বাইরে—সানডে, মামুনুল, সাদউদ্দিন, তপু বর্মন, নাবীব নেওয়াজ জীবন, মামুন মিয়া। মাঠে নেমে ৭ মিনিট মুক্তিযোদ্ধার গিনির ফরোয়ার্ড কামারার সঙ্গে আবাহনীর গোলকিপার এবং অধিনায়ক সোহেলের সঙ্গে আঘাত লাগলে কামারাকে হাসপাতালে নিতে হয়। গোলকিপার সোহেলকে মাঠ থেকে তুলে নিতে হয়। তারপরও আবাহনী দুই বার গোলের সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি। হাইতির স্ট্রাইকার বেলফোর্ট ওপেন নেট পেয়েও গোল করতে পারেননি। গোলকিপার ওমর ফারুক লিংকনকে কাটিয়ে ফাঁকা নেট পেয়ে বল বাইরে পাঠান।

ম্যাচের ভাগ্য খুলে দ্বিতীয়ার্ধে। ৭৩ মিনিটে আক্রমণ ভাগে জুয়েল রানাকে তুলে নামানো হয় শীতলকে। আর শীতল গোল পান তিন মিনিট ব্যবধানে। রুবেল মিয়ার পাঠানো বলে গোল করেন শীতল ১-০। মাত্র ৪০ সেকেন্ড ব্যবধানে আবার গোল। আবার সেই শীতল। এবার ডান প্রান্ত হতে বেলফোর্ট ক্রস ফেলেন আর শীতল মাথা ছোঁয়ান ২-০।

টাঙ্গাইলের সখীপুরের কচুয়া আড়াইপাড়া গ্রামের দম্পতি সামসুল হক এবং মা ফিরোজা বেগমের ছেলে শীতল উত্তর বারীধারা ক্লাবের জার্সি গায়ে এই আবাহনীর জালে গোল করেছিলেন। ফেনীর সকার ক্লাব, ভিক্টোরিয়া এবং অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছেন। বাবা সামসুল হক পুলিশ দলে ফুটবলে খেলেছেন।

বড় ভাই শিশির এখন সেনাবাহিনীর ফুটবল দলের খেলোয়াড়। শীতল গত মৌসুমে আবাহনীতে যোগ দিলেও সাইড বেঞ্চেই থাকতে হয়েছে। এবার ফেডারেশন কাপ ফুটবলে আবাহনী হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হলেও শীতল  নামার সুযোগ পাননি।

 সেই শীতলের ভাগ্য খুলে গেল এক ম্যাচে। মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে। খেলা শেষের বাঁশি বাজার আগে মুক্তিযোদ্ধা পেনাল্টি পায়, জাপানি ফুটবলার ইউসুকে কাতো গোল করেন ১-২।