কথা দিয়ে কথা রেখেছেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বকাপের পরে এখন পর্যন্ত আর এক দিনের জন্যও অধিনায়কত্ব করেননি তিনি। ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরে আর এক দিনের জন্যও অধিনায়ক হিসেবে থাকবেন না বলে গণমাধ্যমে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। আর সত্যিই ঐ টুর্নামেন্টের পরে জাতীয় দল কিংবা ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট, কোথাও অধিনায়ক হিসেবে দেখা যায়নি সাকিবকে।
এমনকি বিশ্বকাপের পরে দায়িত্ব তার কাঁধে থাকলেও মাঠে সেটিকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বাস্তবায়ন করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বিসিবির নবম বোর্ড মিটিংয়ে ভার মুক্ত করে শান্তর কাঁধেই দেওয়া হয় পূর্ণকালীন দায়িত্ব। এর পর থেকেই নতুন নেতার থেকে প্রত্যাশা বেড়েছে ভক্তদের। তার হাত ধরে বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে এমনটিই মনে করেন ভক্তরা। যেখানে শান্তকে গ্রেট লিডারের তকমা দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ নাফিস ইকবাল খান।
দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কা সিরিজ দিয়ে পূর্ণ অধিনায়ক হিসেবে শান্তর যাত্রা শুরু হবে। ক্রমান্বয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেবেন। বর্তমানে বিপিএল নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন শান্ত। খেলছেন সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে। তার দল ভালো অবস্থানে নেই। ৯ ম্যাচের ৬টিতেই হেরে টেবিলের তলানির দিকে রয়েছে। টুর্নামেন্টটিতে শান্তকেও আহামরি কিছু করতে দেখা যায়নি। এই দলে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন নাফিস ইকবাল।
গতকাল চট্টগ্রাম থেকে শান্তর বিষয়ে কথা বলেন তিনি। জাতীয় দলে শান্তর অধিনায়কত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে নাফিস বলেন, ‘আমি শান্তকে আরও আগে থেকে দেখেছি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে কলাবাগান জুনিয়রের হয়ে আমরা একসঙ্গে খেলেছি। তার মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। অধিনায়ক শান্তর সঙ্গে সবশেষ সিরিজে নিউজিল্যান্ডে কাজ করেছি আমি। নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্যতা তার মধ্যে রয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে সে খুবই শান্ত ও স্থির, এটা আমি আগেও বলেছি। তার সঙ্গে কাজ আমি উপভোগ করেছি। সে নিজেকে প্রমাণ করেছে।’
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের অধিনায়কের প্রসঙ্গ ঘুরেফিরে আসছেই। এশিয়া কাপের আগে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তামিম ইকবাল। এরপরে নতুন অধিনায়ক নিয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপে মাঠে নামে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ হলেও কম সময়ে সাকিব আল হাসান সেভাবে গুছিয়ে উঠতে হিমশিম খেয়েছিলেন। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেও নতুন অধিনায়ক পেল টাইগার বাহিনী। যদিও ভারপ্রাপ্ত হিসেবে শান্তই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। এবার ভার মুক্ত হয়ে পূর্ণ অধিনায়ক হলেন তিনি। আগামী জুনে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর। হাতে চার মাসেরও কম সময় রয়েছে। এর মধ্যে নিজেকে ও দলকে কতটুকু গুছিয়ে নিতে পারবেন শান্ত, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিষয়টি নিয়ে নাফিস বলেন, ‘সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পছন্দ করে। চার মাস তার জন্য বেশি সময় না। তবুও ও দায়িত্ব পেয়েছে, আমাদের উচিত তাকে সমর্থন করা। সে দেখিয়েছে সে এক জন গ্রেট লিডার। সে কিন্তু আগে এই দলেও কাজ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাকে যোগ্য মনে করেছে বলেই অধিনায়কত্ব দিয়েছে। কিন্তু সামনে যে বিশ্বকাপটা রয়েছে সেটা চ্যালেঞ্জিং। তবে তার মধ্যে সেটি মোকাবিলা করার মতো দক্ষতা রয়েছে। এই টুর্নামেন্ট থেকে যেভাবেই হোক ভালো কিছু বের করবে শান্ত।’ তবে এই চার মাসে আহামরি পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মনে করেন সিলেটের ম্যানেজার। তিনি সবাইকে পাশে থাকার অনুরোধ করেছেন।
বিপিএলে শান্তর ফর্ম নিয়ে নাফিস বলেন, ‘টুর্নামেন্টটিতে শুরুটা ওভাবে ভালো হয়নি। তবে শেষ দুটি ম্যাচে সে খুবই ভালো করছে। সে কঠোর পরিশ্রম করছে। পরবর্তী তিন ম্যাচে ওর ভালো ফর্মটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে আমাদের অবস্থানটা সুবিধাজনক জায়গায় থাকবে। শেষ চার ম্যাচের তিনটিতে আমরা জিতেছি। সুতরাং মোমেন্টামটা আমাদের সঙ্গে আছে।’ বাংলাদেশের দল নিয়েও আশাবাদী নাফিস। তিনি বলেন, ‘সবশেষ সিরিজ দেখে মনে হয়েছে দলের সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। দলের বড় তারকারা ছিল না, তার পরেও সবাই ভালো করেছে। এটা অবশ্যই দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। আবার তারকা খেলোয়াড়রা যখন আসবে তখন আরও ভালো অবস্থান তৈরি হবে।’
এ দিকে চট্টগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেছিলেন সিলেটের হয়ে খেলা ইংলিশ ক্রিকেটার সামিট প্যাটেল। বিষয়টি নিয়ে বেশ তোলপাড়ও হয়েছে। সামিট প্যাটেলকে নিয়ে নাফিস ইকবাল বলেন, ‘আমরা বিষয়টিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। ইতিমধ্যে দলের মালিকও বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেছেন। যা যা করা দরকার সেগুলো করা হচ্ছে। আর বিষয়টি নিয়ে সামিট ক্ষমা চেয়েছেন।’