জয় দিয়ে মিশন শেষ করতে চায় বাংলাদেশ

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ মানেই গ্যালারিতে উত্সবমুখর পরিবেশ, দর্শক-সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস। ওভালে প্রথম ম্যাচ থেকে সাউদাম্পটনে সপ্তম ম্যাচ পর্যন্ত এমন দৃশ্যই বারবার দেখা গেছে। কিন্তু এজবাস্টনে আর খুঁজে পাওয়া গেল না বাংলাদেশকে। থেমে গেল বাঘের গর্জন। ভারতের কাছে হেরে বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে।

শুধু গ্যালারি নয়, ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমেও নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। অনেক বড়ো কিছু হারিয়ে ফেলার কষ্টে সবাই নির্বাক। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও টিমের অন্য সদস্যরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। ভারতের কাছে ২৮ রানে পরাজয়ে আট ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট সাতেই আটকে রইল। তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান এখন তিন। অর্থাত্ পরের ম্যাচে পাকিস্তানকে হারালেও আর লাভ নেই।

তবু শেষ ম্যাচে জয়ী হতে চান বাংলাদেশের প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হয়তো সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। তবে এখনো আমরা সেমিফাইনালিস্টের তালিকা পালটে দেওয়ার ক্ষমতা রাখি। আগামী শুক্রবার লর্ডসে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ঐ ম্যাচে পাকিস্তান জিতলে তাদের সম্ভাবনা থাকবে শেষ চারে ওঠার। কিন্তু আমরা সহজে পাকিস্তানকে ছেড়ে দেব না। আমরা তাদের (পাকিস্তান) এশিয়া কাপে হারিয়ে ছিলাম। তারা পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চাইবে। আমরা শেষ ম্যাচটা জিততে চাই। এবারের বিশ্বকাপ জয় দিয়ে শুরু করেছিলাম। শেষও করতে চাই জয় দিয়ে।’

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ড্রেসিং রুমের হতাশার চিত্র তুলে ধরেন প্রধান কোচ। বাংলাদেশকে ‘জনগণের দল’ উল্লেখ করে রোডস বলেন, ‘ড্রেসিং রুমে খেলোয়াড়রা খুবই হতাশ। সত্যি কথা বলতে কি, আমাদের সকলের হূদয় পুড়ে যাচ্ছে। এই বিশ্বকাপে আমরা ভালোভাবেই শুরু করেছিলাম। আমরা আরো সামনের দিকে যেতে চেয়েছিলাম। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে লড়াই করে হেরেছি। বড়ো বড়ো দলগুলোর সঙ্গে যেভাবে খেলেছি তাতে আমি সত্যি গর্বিত।’

ম্যাচে ভারতের রোহিত শর্মা এবং কে এল রাহুল জুটি ১৮০ রান করেছে, যা এই বিশ্বকাপে প্রথম উইকেট জুটির রেকর্ড। রাহুল ৭৭ রানে আউট হয়ে গেলেও রোহিত শর্মা এই বিশ্বকাপে তাঁর চতুর্থ শতকটি করে ফেলেন। এর আগে বিশ্বকাপের এক আসরে চার সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারার। ২০১৫ বিশ্বকাপে তিনি এই অসাধারণ কাজটি করেছিলেন। কিন্তু ভারত ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সাকিব ও সাইফুদ্দিন ছাড়া আর কেউ অর্ধশতক পাননি। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ইনিংসের আগাগোড়াই ভালো রান রেট ছিল। শেষের দিকে গিয়ে সাইফুদ্দিনের ৫১ রান ভারতীয় অধিনায়কের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল। রোডস বলেন, ‘ভারতের ব্যাটসম্যানদের আমরা ২৫ থেকে ৩০ রান বেশি দিয়েছি। আর ম্যাচও হেরেছি ২৮ রানেই।’ তিনি বলেন, ‘এক পর্যায়ে এমনও মনে হচ্ছিল যে, ভারতের রান ৩৭০-৩৮০-৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রথম এক ঘণ্টা ম্যাচ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। শুরুটা ভালো করতে পারলে ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতে পারত।’