বরিশালে নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশাল নগরীসহ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নগরী ও সদর উপজেলাসহ জেলার হিজলা, মুলাদী, বাবুগঞ্জ ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল জোয়ারের সময় কমপক্ষে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। ভাটার সময় উঁচু এলাকার পানি নেমে গেলেও এসব এলাকার চরাঞ্চল পানিতে ডুবে আছে। হঠাত্ করে পানিতে এলাকা ডুবে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। রাস্তাঘাটেও জোয়ারের পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক বেল্লাল হোসেন জানান, নিম্নচাপের কারণে সাগরে ৪ নম্বর সতর্কতা এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ কারণেই নিম্নাঞ্চল নিমজ্জিত হতে পারে বলে তিনি জানান।

জোয়ারের পানিতে বরিশাল নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের খ্রিষ্টানপাড়া, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর, রুপাতলী, আমানতগঞ্জ, বেলতলা, পলাশপুর, রসুলপুর, চাঁদমারী, স্টেডিয়ামের পেছনের অংশ, পাউবোর দপ্তরের একাংশ, মোহাম্মদপুরসহ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার পাকা সড়ক হাঁটুপানির নিচে। তাই চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মেঘনার ভাঙনে পড়েছে হিজলার ধুলখোলা ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজার। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে মেহেন্দীগঞ্জের শ্রীপুর, আলিমাবাদ, ভাসানচর, গোবীন্দপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন, বাবুগঞ্জ উপজেলায় রাক্ষুসী সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে নদীতীরবর্তী শত শত ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এতে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে শত শত পরিবার। দিশেহারা ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। তীব্র ভাঙনের কবলে রয়েছে বাবুগঞ্জের সৈয়দ মোশারফ-রশিদা একাডেমি, আবুল কালাম কলেজ সংযোগ সড়কসহ বেশ কিছু স্থাপনা। এছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (দোয়ারিকা) সেতু, মহিষাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ, জামেনা খাতুন মাধ্যামিক বিদ্যালয়, পূর্ব ক্ষুদ্রকাঠি গ্রাম, চরসাধুকাঠি মাদ্রাসা, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর স্মৃতি জাদুঘর, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজার, মীররগঞ্জ ফেরীঘাট ও বাজারসহ বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। ইতিমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিম এমপি, বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশালের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাভেদ ইকবাল জানান, গতকাল বরিশালের বিভিন্ন নদীতে ২ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহিত হয়, যা বিপত্সীমার অতি নিকটে। নদীভাঙন বিষয়ে তিনি বলেন, বাবুগঞ্জের পাঁচটি পয়েন্টে ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।