কক্সবাজারের পেকুয়ায় চলতি মৌসুমে প্রায় একশ একর পাহাড়ি জমিতে আমের চাষাবাদ হচ্ছে। গাছে গাছে ছেয়ে গেছে আমের মুকুল। ঘুরে ঘুরে মুকুলে বসছে মৌমাছি। আম চাষিরা গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে। এবারে আমের অধিক ফলনের আশায় বুক বেঁধেছে চাষিরা।
পেকুয়া উপজেলার পাহাড়ি জনপদ টইটং, বারবাকিয়া ও শিলখালী ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে শোভা পেয়েছে আমের মুকুল। তবে ছোট আকারের চেয়ে বড় ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল এসেছে।
পেকুয়া উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবার প্রায় একশ একর পাহাড়ি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হবে। তবে চাষিদের বলা হচ্ছে ফুল ফোটা অবস্থায় কোনো কীটনাশক ব্যবহার না করার জন্য। যদি আমগাছে পোকা বেশি দেখা দেয় অনুমোদিত কীটনাশক ছিটানোর কথা বলা হয়েছে।
টইটং পাহাড়ি এলাকায় এবার আমের বাগান চোখে পড়ার মতো। জুঁকখোলা, গুদিকাটা, ছনখোলা, জুমপাড়া, চেপ্টামুরা,কেরনছড়ি, আলিম্মার ঝিরি, হাতিরডেরা,মৌলভী হাসানের জুমসহ বিভিন্ন এলাকায় চাষিরা আমের বাগান করেছে। বাগানগুলোতে রয়েছে লেংড়া, হাঁড়িভাঙা, বারি-৪, বারি-৫, বারি-২সহ নানা জাতের গাছ।
চেপ্টামুরায় বাঁশখালী পুঁইছড়ি এলাকার কাজল প্রায় ৫ একর জমিতে আমের চাষ করেছে। চাষি ইউনুস, আবদুল্লাহ,আইয়ুব আলীও তাদের আম বাগানে এবার বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছে। তারা জানান, এবার আমগাছে আগেভাগে মুকুল এসেছে। ভরে গেছে মুকুলে মুকুলে। এখন আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ আমগাছে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর তারা আমের বাম্পার ফলন পাবেন বলে আশা করছেন।
আমচাষি জাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আমগাছে মুকুল আসা শুরু করেছে। কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করছি। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভাল ফলন ও লাভবান হবো।’