ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা তথা ডিএনডি বাঁধের ভেতরে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পের কাজ ১০০ ভাগের মধ্যে ৩৩ ভাগ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনডি প্রকল্প ও ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) সংশ্লিষ্টরা। তবে এ কাজের ধীরগতি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য মূলত তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অসহযোগিতাকেই দায়ী করেছেন তারা। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের অসচেতনতা, অধিগ্রহণে বাধা, প্রকল্পের ম্যাপ অনুযায়ী কাজ না করতে পারাসহ অন্য সরকারি দপ্তরগুলোর সহযোগিতার অভাবকেও দায়ি করেন তারা। তবে সকলে একযোগে সহযোগিতা করলে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে অর্থাত্ ২০২০ সালের জুনের আগেই শেষ করা সম্ভব বলে জানান তারা। গতকাল প্রকল্পের এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ডিএনডি প্রকল্পের কাজ যেকোনো প্রকল্প থেকে চ্যালেঞ্জিং। মূলত এখানে ডাম্পিং নেই, খালগুলোর নিচ দিয়ে গ্যাস, বিদ্যুত্, ওয়াসার লাইনসহ বিভিন্ন লাইন রয়েছে যেগুলোর জন্য পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও উচ্চ আদালত থেকে ২৬ জন অবৈধ স্থাপনার মালিক স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছে। এ ২৬ জনের জন্য ২২ লাখ লোকের সমস্যা হচ্ছে। আমরা এসব কিছুই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করছি। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর ডিএনডি প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করা হয়। এর মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছরের জুনে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৩৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত যেটুকু কাজ হয়েছে তাতে জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকটাই নিরসন হবে। আমরা সেইভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ কাজের জন্য ৫৫৮ কোটি টাকার যে ব্যয় ধরা হয়েছে সেটাও বাড়বে।’ তিনি আরো জানান, ডিএনডি প্রকল্পের অধীনে ৯৪ কিলোমিটার খালের মধ্যে ১৭ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার করার পরও স্থানীয় এলাকাবাসী সেখানে আবারো ময়লা আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দাদের আরো সচেতন হতে হবে। অন্যথায় এ উন্নয়ন মানুষের উপকারে আসবে না।
তিনি বলেন, সীমানা নির্ধারণ প্রকল্পের কাজ আধুনিকভাবে করা হচ্ছে। ফলে আমরা যে পিলারগুলো বসিয়েছি সেগুলো ভবিষ্যতে উঠিয়ে ফেললেও আমরা সেসব স্থান সহজেই খুঁজে পাবো। তবে শ্যামপুরের দিকে জমি অধিগ্রহণের জন্য ম্যাপের মধ্যে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। এজন্য কাজে সময় লাগছে।
তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অসহযোগিতাকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত বছর ৬ নভেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় বিভিন্ন সংগঠনের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, ডিএনডির প্রকল্পের জন্য সবাই সহযোগিতা করবেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত হলেও তিতাস কোম্পানি শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনো সহযোগিতা করছে না। বরং তাদের লাইন সরিয়ে না নেওয়ায় কাজে ধীরগতি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে তিনি বলেন, শিমরাইলে ২০০ কিউসেকের ৬টি পানি নিষ্কাশন পাম্প ও আদমজীতে ৭টি পাম্প বসানো হবে। এছাড়াও ফতুল্লা, শ্যামপুর ও পাগলা এলাকায় ১০ কিউসেকের ২৪টি পাম্প বসানো হবে। আর এসব পাম্পের স্থাপনার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের আগেই সব কাজ শেষ হবে। সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আমাদের এক কাজ বার বার করতে হচ্ছে। যেমন ১৭ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার করে এসেছি কিন্তু এলাকার বাসিন্দারা সেখানে ময়লা ফেলে আবারো খাল ভরাট করে ফেলেছে। তাই এক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হতে হবে। না হলে জলাবদ্ধতা কখনো শেষ হবে না।