ব্রাউনের প্রতিটি বাউন্ডারি তামিমকে আঘাত করেছে

বলা হয়, ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস। কিন্তু ২২ গজের অপ্রিয় এই সত্য প্রভাব ফেলেনি বিপিএলে ফরচুন বরিশালের ম্যাচে। গতকাল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে সহজ একটি ক্যাচ ফেলে দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন তামিম ইকবাল। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে খ্যাত জশ ব্রাউনের ক্যাচ ফেলার খেসারত বরিশালকে দিতে হয়নি। তাতে ম্যাচ মিসের মতো ঘটনাও হয়নি। তবে অমন সহজ ক্যাচ মিসের বিষয়টি কোনো কথা ছাড়াই যে উবে যাবে না, সেটি অনুমেয় ছিল।

নেটিজেন থেকে শুরু করে মাঠের অনুষ্ঠান সঞ্চালক- সকলের মনেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ক্যাচ ফেলে দিয়ে কিছুটা বিব্রত হয়েছেন তামিম নিজেও। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ক্যাচ ছাড়ার পরে ব্রাউনের হাঁকানো প্রতিটি বাউন্ডারি তার হূদয়ে আঘাত করেছে। 

চট্টগ্রাম-বরিশাল ম্যাচটিতে তামিমরা ৭ উইকেটের জয় নিয়ে এখন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলার অপেক্ষায়। দলটিকে ফাইনালে যেতে হলে আরো একবার পরীক্ষা দিতে হবে। এলিমিনেটরের এই ম্যাচে অজি ব্যাটসম্যান জশ ব্রাউনের ক্যাচ তামিম যখন ফেলেছিলেন তখন ব্রাউন ১৪ বলে ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন। ব্রাউনের ক্যাচ মিসের পরে ঘটনাটি আলোর বেগে নেটে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি চ্যালেঞ্জার্সের এই ওপেনার। শেষ পর্যন্ত তিনি ২২ বলে ৩৪ রান করে বিদায় নিয়েছেন সেই ওবেদ ম্যাককয়ের বলেই। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের ম্যাককয়ের করা পঞ্চম বলে এক্সট্রা কভারে দাঁড়িয়ে থাকা তামিমকে ক্যাচ দিয়েছিলেন ব্রাউন। বরিশালের অধিনায়ক ও ওপেনার বলের নিচে থেকেও হাতের ওপরে আসা ক্যাচটি নিতে পারেননি। তার হাত ছুঁয়ে বলটি নিচে পড়ে যায়। এরপরে সপ্তম ওভারে একটি করে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে ডেভিড মিলারের হাতে ক্যাচ দেন ব্রাউন।

ম্যাচশেষে তামিম ইকবাল বলেন, ‘ফিল্ডিং যখন করি তখন নিজের কাছ থেকে একটু বেশিই চাওয়া থাকে। ব্রাউনের ক্যাচ যখন মিস করি, এরপরে সে যখন ব্রাউন্ডারি হাঁকিয়েছে, তখনই হূদয়ে আঘাত পেয়েছি। সবকিছু তখন চাপ মনে হচ্ছিল। কিন্তু যখন সে আউট হলো, তখন স্বস্তি খুঁজে পেয়েছি।’

পরের ম্যাচ নিয়ে বরিশালের দলপতি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে কারা রয়েছে, সেটি মুখ্য বিষয় না। প্রতিপক্ষ দারুণ খেলে এসেছে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে। তবে আমরা নিজেদের ওপরে ভরসা রেখেছি। কীভাবে ম্যাচ বের করে আনা যায়, সেটি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাব।’