বিআইবিএমের কর্মশালায় বক্তারা

৮০ ভাগ অর্থ পাচার হয় বাণিজ্যের মাধ্যমে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পরিবহন ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জ বিশ্বব্যাপী বেড়েছে। এ প্রেক্ষিতে ব্যাংকারদের বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে বিল অব লেডিং, এয়ারওয়ে বিল, ট্রাক রিসিপ্টের বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাংকারদের সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জাল-জালিয়াতি প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, শুল্ক বিভাগ, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার, শিপিং লাইন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। যাতে বাণিজ্য সংক্রান্ত উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাণিজ্য ভিত্তিক অর্থ পাচার মোট অর্থ পাচারের ৮০ শতাংশ। অর্থপাচারের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ব্যাংকের সঙ্গে শুল্ক বিভাগের সমন্বয় জরুরি।

গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘ট্রান্সপোর্ট ডকুমেন্টস ইন ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বাই ব্যাংকস: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রিফর্মস অ্যাডভাইজার এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি, কাস্টমস ভ্যালুয়েশান অ্যান্ড ইন্টারনাল অডিট কমিশনারেটের কমিশনার ড. মঈনুল খান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব-উল-আলম, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ শাহীন, ওসান নেটওয়ার্ক এক্সপ্রেস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ফায়েজ খোন্দকার প্রমুখ।

কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (ট্রেনিং) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। ১০ সদস্যের গবেষণা দলে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের অনুষদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. আব্দুল কাইউম, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক প্রদীপ পাল এবং মোক্তার হোসেন, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক অন্তরা জেরীন, বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ টি এম নেছারুল হক এবং ওসান নেটওয়ার্ক এক্সপ্রেস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার ফয়জুর রহমান।

অনুষ্ঠানে এস কে সুর চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধায় গুণগত পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাণিজ্যিক পরিবর্তন এবং ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় নিয়ে কাজ হচ্ছে। এরই মধ্যে বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত একটি নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা সংশ্লিষ্টদের খুব উপকারে আসবে।

মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, ট্রান্সপোর্ট ডকুমেন্টস উন্নত বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ না হলেও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো খুব গুরুত্ব দেয়। কারণ এ ধরনের ডকুমেন্টের সঙ্গে রপ্তানির হিসাব এবং ঋণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য পাওয়া যায়। এ কারণে এসব তথ্য আরও সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা জরুরি।

ড. মঈনুল খান বলেন, বাণিজ্য ভিত্তিক অর্থ পাচার মোট অর্থ পাচারের ৮০ শতাংশ। অর্থপাচারের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ব্যাংকের সঙ্গে শুল্ক বিভাগের সমন্বয় জরুরি। কারণ এক পণ্যের আড়ালে ভিন্ন পণ্য আনছে এ ধরনের অভিযোগ আছে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।