মার্কিন প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর

যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে গেল। এই প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ছিলেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার। প্রতিনিধিদলের আরেক সদস্য হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সিনিয়র ডিরেক্টর অ্যালিন লুবাচার। আরো ছিলেন মাইকেল শিপার, যিনি ইউএসএআইডির এশিয়া ব্যুরোর অ্যাসিস্টেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর।

তিন সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের সফর ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ থেকে ২৬ তারিখ, তথা তিন দিন তারা সফর করেছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার রেশ এখনো রয়ে গেছে। এই সফরে প্রতিনিধিদল একদিকে যেমন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছে এবং অত্যন্ত খোলামেলা পরিবেশে কথা বলেছে, একই সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছে বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও। পাশাপাশি বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ এবং আরো কিছু পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে।

এই প্রতিনিধিদলের সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশে গত ৭ জানুয়ারি একটি শান্তিপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থ মেয়াদে নতুন সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পঞ্চম মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছেন। অত্যন্ত অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, অভিজ্ঞ শাসক হিসেবেই তিনি নতুন সরকারে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর কারণ, দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হওয়ার ইঙ্গিত আমরা দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত লক্ষ করা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ‘যুক্তরাষ্ট্র’ ইস্যুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মানবাধিকার, গণতন্ত্রসহ বেশ কিছু বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একধরনের মতপার্থক্য ছিল। এসব ইস্যুকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টাও ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য নির্বাচনোত্তর আমরা লক্ষ করেছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর অন্যতম দৃষ্টান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক পাঠানো একটি চিঠি।

সফরে আসা প্রতিনিধিদলের কাছে সেই চিঠির উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বলা বাহুল্য, এই চিঠি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনার কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে, ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূরাজনীতির গুরুত্বের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী ও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে চিঠিতে।

আমরা জানি, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। দু দেশের মধ্যে একদিকে যেমন ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, রয়েছে বিনিয়োগও। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি হয় প্রতি বছর। এতে করে একদিকে যেমন বাংলাদেশের রপ্তানি আয় অর্জনে সহায়তা হয়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি চাহিদা মেটে। বিশ্ববাজারে তুলনামূলকভাবে কম মূল্যে মানসম্পন্ন বাংলাদেশি পণ্য আমদানি করতে পারছে যুক্তরাষ্ট্র।

ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুবই ইতিবাচক। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ, বিশেষ করে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে চাঙাভাব ধরে রাখতে সহায়তা করে। এই সবকিছু ছাপিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রশ্নে বিশেষত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বারবার উঠে আসে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল’ প্রসঙ্গ। এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সামরিক তত্পরতা রয়েছে এবং তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সংযুক্তি রয়েছে। ফলে ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূমিকার নিরিখে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে পাওয়ার একটি আকাঙ্ক্ষা আমরা লক্ষ করে থাকি।

পাশাপাশি মিয়ানমারের চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থার কথাও বলতে হয়। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট অবস্থান রয়েছে এবং তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বার্মা অ্যাক্টের সঙ্গে যুক্ত। ফলে মিয়ানমারের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন তথা জান্তা সরকারের উত্খাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা।

মিয়ানমারে চলমান সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব আরো বেড়েছে নিঃসন্দেহে। এরকম একটি প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের সময় ও নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে মতপার্থক্য ছিল, তা পেছনে ফেলে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে দুই দেশ। বিশেষ করে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বলছেন, বাংলাদেশ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী রাখতে চায়। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এই মূল চেতনা অক্ষুণ্ন রেখেই মূলত বাংলাদেশ তার পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার জন্য ইচ্ছুক। একই সঙ্গে আমরা দেখতে পাচ্ছি, পশ্চিমা বিশ্বেরও আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্র সেই আগ্রহের কথা বারবার ব্যক্তও করেছে।

এসব বিবেচনায় বলা যায়, এই সফর বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। লক্ষণীয়, প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যে বৈঠকগুলো হয়েছে, তাতে অত্যন্ত কার্যকর আলোচনা হয়েছে। শ্রম অধিকারের বিষয় থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন, বণিজ্য, নিরাপত্তা—প্রায় প্রতিটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিষ্কার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান ছিল, সেখান থেকে সরে এসে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক শক্তিশালী করার কথা ভাবছেন তারা। এর পরিষ্কার প্রভাব হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে চীন বা রাশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে হয়তোবা যুক্তরাষ্ট্র কিছু আশা করতে পারে। যদিও বাংলাদেশ পরিষ্কারভাবেই ‘একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ’ সম্পর্কে বিশ্বাসী। এদিক থেকে বলা যায়, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ধারা বজায় রেখেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে আরো উষ্ণ করার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ।

মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নতুন মেয়াদে প্রথম বিদেশ সফর করেছেন ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র জার্মানিতে। সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন তথা মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদলের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোনোভাবেই যাতে দুই দেশের জন্য ক্ষতি বয়ে না আনে, তার একটি পরিষ্কার ইঙ্গিত আমরা দেখতে পাই। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র নানা ধরনের সামরিক ও কৌশলগত বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।

বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা যুদ্ধ, তাইওয়ান, নর্থ কোরিয়ার ক্ষেত্রে যে সংকট ইত্যাদি অনেক কিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের নাম। বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি কাছে পেতে চায়। কারণ বাংলাদেশের যে গুরুত্ব রয়েছে, কোনোভাবেই বাংলাদেশকে দূরে ঠেলে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনীতির দিক থেকে এবং জাতীয় স্বার্থের দিক থেকে সমীচীন হবে না। সেই বোধই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে হয়তো আমরা বর্তমান সময়ে আরো বেশি মাত্রায় দেখছি এবং তার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করেন।

নিশ্চয় এই সফরের পরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার নীতিনির্ধারকেরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরো কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সেই চেষ্টা করবেন তারা। তবে বাংলাদেশ কয়েকটি বিষয় উত্থাপন করেছে, যে বিষয়গুলো বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একধরনের মতপার্থক্যের বিষয় হলেও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—  র‍্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ বাংলাদেশ কখনো কোনোভাবেই এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে না। বাংলাদেশ ক্রমাগতভাবে তার নিরাপত্তা বাহিনী পরিচালনাসহ সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের চেষ্টা করে আসছে। সেদিক থেকে র্যাবের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

যদিও এই সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এ বিষয়ে পাঁচটি পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যদিও গণমাধ্যম বা কোনো পর্যায় থেকেই জানা যায়নি যে এই শর্ত ও অবজারভেশনগুলো কী এবং সেগুলো কীভাবে বাংলাদেশ পূরণ করবে। তবে এটি পরিষ্কার করে বলা যেতে পারে যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের শর্ত বা অবজারভেশনকে কখনোই স্বাগত জানানোর প্রয়োজন মনে করে না। কারণ বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম সম্পূর্ণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক এবং সে বিষয়ে বাংলাদেশ হয়তো স্বপ্রণোদিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজন হলে পরিবর্তন আনবে। কিন্তু কোনোভাবেই কোনো শক্তি দ্বারা চাপে পড়ে নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অবশ্যই প্রাধান্য পেয়েছে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে, বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছে, সেই বৈঠকের পরে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিবৃতি বা কোনো বিষয়ে কোনো পরিষ্কার বক্তব্য রাখা হয়নি। ফলে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়টি আরো বেশি শক্তিশালী ও মসৃণ করার ক্ষেত্রে এই সফর ভূমিকা রাখতে পারে।

আগামী দিনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বৃহত্ শক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউকেসহ সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে। ফলে এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ভবিষ্যত্ রূপরেখার একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন গবেষক মাইকেল গুলম্যান। তিনি বারবার বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ পলিসি অনেক বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ চাপ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের কাছ থেকে কোনো কিছু অর্জন করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন। সেটিই বারবার প্রমাণিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিনিধিদলের সফর শেখ হাসিনার সরকারের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তার জার্মানি সফরের মাধ্যমে সেই গুরুত্বও আমরা অনুধাবন করি। একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও এই সফর ছিল তাত্পর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে যে প্রতিযোগিতা আছে চীন, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ গুরুত্বপূর্ণ বৃহত্ এবং মাঝারি শক্তিসমূহের মধ্যে, তার জন্যও এই সফর অন্যতম একটি মাইলফলক। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে যে উত্তেজনা, ভুল ধারণা ও মতপার্থক্য রয়েছে, তা এই সফরের মাধ্যমে দ্রুত নিরসণ হবে বলে আমরা আশা করি। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুই দেশ আরো এগিয়ে যাক, সেটিই আমরা প্রত্যাশা করি একান্তভাবে।

লেখক :আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক। অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সদস্য, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)