অবৈধ সম্পদ অর্জন, স্ত্রীসহ ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জে চৌহালীতে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৩ মার্চ) দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রায়হান বকসী এ মামলা করেন।

আসামিরা হলেন চৌহালী উপজেলার উমারপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সেলিম রেজা (৪৫) ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগম (৪২)। সেলিম রেজা জেলার বেলকুচি উপজেলার চর জোকনালা গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার মাছুমপুর এলাকায় বসবাস করেন।

দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালে সেলিম রেজার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতি করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেন দুদক।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সেলিম রেজা তার সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর সম্পদ ও অস্থাবর ৫৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৪ টাকা মূল্যের সম্পদ গোপন করেন। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ছাড়া তিনি ৪৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৫০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অপরদিকে তার স্ত্রী আফরোজা বেগম (৪২) তার বিবরণীতে স্থাবর সম্পদ ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে ৩৫ লাখ ১১ হাজার ৫৫৫ টাকা মূল্যের সম্পদ গোপন ও ৫৬ লাখ ২৬ হাজার ৫৫৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক ফেরদৌস রায়হান বকসী বাদী হয়ে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সেলিম রেজা ও তার স্ত্রী আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন।

অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, আমার সব সম্পদ আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ আছে। দুদক অফিসে সঠিকভাবেই জমা দিয়েছি। সম্পদের কোনো কিছু গোপন করিনি।

মামলার বাদী ফেরদৌস রায়হান বকসী বলেন, সেলিম রেজা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।