পুত্রভাগ্যই কি বদলে দিল শুটিংয়ের জামাই জাকের আলিকে

দিনাজপুরে মুন্সিপাড়ায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার জাকের আলি অনিকের শ্বশুরবাড়ি। গত ২৯ জানুয়ারি পুত্র সন্তানের বাবা হয়েছেন জাকের আলি। সেই আনন্দের বন্যা সংসার জুড়ে। মিষ্টি খাওয়ার রেশ এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে জাকের জাতীয় দলে প্রবেশ করেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে আলোড়ন তুলেছেন। সিলেটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে খাদের কিনারা থেকে বাংলাদেশকে তুলে এনেও মাত্র তিন রানে হেরেছে।

বাংলাদেশ হারলেও জাকের আলির ঝড়ো ইনিংস দেশের সব টেবিলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। জাকের আলির স্ত্রী জাতীয় দলের শুটার নাফিসা তাবাসসুম নাতাশা। আন্তর্জাতিক শুটিংয়ে পদক প্রাপ্ত শুটার এখন নবজাতক নিয়ে ব্যস্ত। নাতাশা পুত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেননি।

বাংলাদেশ জিততে পারেনি বলে প্রথমে আফসোস থাকলেও এখন জাকের আলির আফসোস নেই, নাতাশারও আফসোস নেই। আজ নতুন ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন দুজন। খেলার মধ্যে থাকলেও পুত্র সন্তানকে ভিডিও কলে দেখেন জাকের। ছেলে কী করছে, কখন ঘুমাচ্ছে সব খবর নিচ্ছেন। স্ত্রী নাতাশা ও জাকের, দুই জনই বিকেএসপির শিক্ষার্থী ছিলেন। 

একজন ক্রিকেটে অন্য জন শুটিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। দুই জনই সফলতার খোঁজ  পেয়েছেন। খুব পর্দানশীল মানুষ নাতাশা। শুটিং খেলাটা তার কাছে ব্যতিক্রম মনে হয়েছিল। তাই এই খেলায় এসেছিলেন। কাল নাতাশা বললেন, ‘আমার কাছে আনকমন খেলা। খুব মজা লেগেছিল। অস্ত্র হাতে খেলতে হয়। তার ওপর এই খেলাটা খেললে আমি পর্দা করে খেলতে পারব। এসব কারণে আমি শুটিংটাকে বেছে নিয়েছিলাম।’

গুলশান শুটিং কমপ্লেকসে নাতাশা ক্যাম্প করতেন, সেখানে যাওয়া-আসা করতেন জাকের আলি অনিক। তখন সবাই জাকের আলিকে জামাই বলে সম্বোধন করতেন। শুটিংয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক ওয়ায়েজ বললেন, ‘জাকের হচ্ছেন আমাদের শুটিংয়ে জামাই। যখনই শুটিংয়ে আসত, আমরা তাকে জামাই জামাই বলে ডাকতাম। কীভাবে জামাইকে একটু ভালোমন্দ খাওয়ানো যায় সেটা ভাবতাম।’ 

নাতাশা এসব কথা শুনে হাসলেন। বললেন, ‘সবই তো বলে দিয়েছে। রত্না আপু কিছু বলেনি।’ নাতাশাকে নিয়ে সাবেক তারকা শুটার রত্না বলেছেন, ‘খুব ভালো মেয়ে নাতাশা। ভালো শুটার। লেগে থাকলে আরো ভালো পারফরম্যান্স করতে পারবে।’ নাতাশার পরিবার খেলাধুলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মা ফাতেমা বেগম গৃহিণী, বাবা নুরুল ইসলাম স্কেটিং কোচ। বোন নওশীন তাবাসসুম জাতীয় স্কেটিং দলের খেলোয়াড়।