বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উপযোগী করে তুলতে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন মংলার আটটি পুকুরের খননকাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে পুকুরগুলো খননের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও ঠিকাদার আর জনপ্রতিনিধির দ্বন্দ্বে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশুদ্ধ পানির উত্স হিসেবে বাগেরহাট জেলা পরিষদের মংলা উপজেলার দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আটটি পুকুর রয়েছে। উপজেলার প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মিটিয়ে আসছে পুকুরগুলো। কিন্তু পুকুরগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির সংকট দেখা দিলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর ২০১৮ সালের আগস্ট মাস থেকে কাজ শুরু করা হয় এবং ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সব কটি পুকুর খনন শেষ করার কথা। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় শেষ হতে চললেও এসব পুকুরের খনন সম্পন্ন হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মিঠাখালী ইউনিয়নে পাঁচটি আর সুন্দরবন ইউনিয়নে তিনটি পুকুরের খননকাজ বন্ধ রয়েছে।
মিঠাখালী ইউনিয়নে পাঁচটি পুকুরের খননকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিনিধি খলিলুর রহমান জানান, দরপত্রের নিয়মানুসারে ১৪ ফুট গভীর করতে হবে প্রতিটি পুকুর। কিন্তু সাত ফুট খনন করলে পানি উঠছে, তাই জনস্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম মেনে ড্রেজার দিয়ে পলি তুলতে হচ্ছে। কিন্তু ওই পদ্ধতিতে পলি তুলতে বাধা দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের বাধার কারণেই পুকুর খননের কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। অন্যদিকে সুন্দরবন ইউনিয়নের তিনটি পুকুরের খননে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও কাজের ধীরগতির জন্য একই কথা বলেন।
মংলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন, সরকারি বরাদ্দের টাকা সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খননকাজ তদারক করেছেন। জনস্বাস্থ্যের দেওয়া নকশা ও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী যাতে পুকুরগুলো খনন করা হয়, সেজন্য তারা সজাগ রয়েছেন।
মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ইস্রাফিল হাওলাদারও অভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার শিডিউল ও নকশা অনুযায়ী কাজ করছেন না। এছাড়া কাজের গতি অত্যন্ত মন্থর হওয়ায় এলাকাবাসী বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
বাগেরহাট জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শামিম আহাম্মেদ কাজের মন্থরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুকুরগুলোর সংস্কারের সময়সীমা আরো এক বছর বাড়ানোর জন্য ঢাকায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।