মাত্র কিছুদিন আগেও ভবনটিতে ছিল মানুষের কোলাহল। একগুচ্ছ রেস্তোরাঁয় যেমন ভিড় করতেন ভোজনরসিকরা, তেমনি ভবনের তৃতীয় তলার দামি পাঞ্জাবির দোকান ও নিচে থাকা দু'টি গ্যাজেট শপেও থাকতো সৌখিন মানুষের ভিড়। সেই ভবনটিই এখন ভয়ঙ্কর নিরব। বাইরে দেয়ালে নানারঙের নিওন সাইনের ঝলমলে আলো জ্বলতে থাকার দৃশ্য এখন কেবলই ছবি। এক সপ্তাহ আগেও এটি ছিল বর্ণিল আড্ডার স্থান, এখন সেই ভবনের পরতে পরতে কেবল ছাইয়ের স্তূপ।
রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার এক সপ্তাহ পূর্ণ হলো আজ। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে ভবনটির নিচতলায় 'চুমুক' নামের একটি কফিশপে আগুন লাগে। ওপরের তলার রেস্তোরাঁগুলোতে তখনো অসংখ্য মানুষের সমাগম ছিল। লিপ ইয়ার (২৯ ফেব্রুয়ারি) উপলক্ষে কিছু রেস্টুরেন্টে ডিসকাউন্ট অফার চলছিল। ফলে অন্যান্য দিনের চাইতে ভিড় ছিল খানিকটা বেশি। আর বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষদিন হওয়ায় সাধারণত বেইলি রোডের দোকানগুলোতে ভিড় হয়। এদিন অনেকেই পরিবারের সদস্য বা প্রিয়জনদের নিয়ে একটু সময় কাটাতে সেখানকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় যান।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যখন ঘটে, ঠিক সেই সময়টায় একটি অনুষ্ঠান থেকে বেইলি রোড এলাকায় বাসায় ফিরছিলাম। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ইত্তেফাক অনলাইনের নাইট শিফট। সাধারণত এই শিফটে বাসা থেকেই কাজ করার সুযোগ থাকে। সেভাবেই প্রস্তুতি ছিল। মগবাজার মোড়ে রিকশায় বসে আছি, এমন সময় স্ত্রী'র ফোনকলে জানতে পারলাম, বেইলি রোডের কেএফসি'র আশেপাশে কোথাও আগুন লেগেছে। ওই পথটা এড়িয়ে মনোয়ারা হাসপাতালের গলি দিয়ে যেন বাসায় ঢুকি। কিন্তু সংবাদকর্মী হিসেবে পরিস্থিতি দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে এসে দেখি রাস্তায় মানুষের ভিড়, আর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় পুরো সড়ক অন্ধকার। ঘড়িতে আনুমানিক ১০টা বেজে ১৫ মিনিট। দেখতে পেলাম, কেএফসি'র ঠিক পাশের ভবনটিতেই আগুন লেগেছে। কাছাকাছি যেতে চেষ্টা করলাম। সেসময় দমকলকর্মীরা ল্যাডারে উঠে হোসপাইপ তাক করে ভবনের বিভিন্ন তলায় পানি দিচ্ছেন। আগুনের শিখা দেখা না গেলেও তখন ভবনটি থেকে প্রচণ্ড ধোঁয়া বের হচ্ছিলো। এরইমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের গাড়ি এসে ঘটনাস্থলে থামলো। খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা জেনে মোবাইলফোনেই নিউজ লিখি। এরপর ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থেকেই সাড়ে ১০টার দিকে তা দ্রুত অনলাইনে আপলোড করি। কেন আগুন লেগেছে, আগুনের ভয়াবহতা কতোটা, কিংবা ভেতরের পরিস্থিতি কী— এ ব্যাপারে কারো কাছে কোনো তথ্য ছিল না। তবে কেউ ধারণা করতে পারেননি, কতো মানুষকে আক্রান্ত করবে এই আগুন!
এ ঘটনার আগে কাচ্চি ভাই, খানাজ, ফুওকো বা অ্যাম্ব্রোশিয়া রেস্টুরেন্টে অন্যান্য দিনের মতোই মানুষ খেতে বসেছিলেন। কোনো ফায়ার অ্যালার্ম না থাকায় নিচে আগুন লাগার বিষয়টি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তারা। ওদিকে আগুনও দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সিড়িঘর হয়ে ধোঁয়া ওপরে উঠতে শুরু করায় মানুষ যখন আগুনের ঘটনা বুঝতে পেরেছেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। দ্রুত ছাদে চলে যান বেশ কয়েকজন। যারা যাননি, তারা ধীরে ধীরে কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন। ভবনটির সামনের অংশটি ছিল ফিক্সড গ্লাস বা বদ্ধ কাঁচে মোড়ানো। ফলে ধোঁয়া বের হওয়ার সুযোগও ছিল না। বিষাক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে অনেকেই চারপাশে হাতড়ে কোনোভাবে বাঁচার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি।
আগুন লাগার ১০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেছিলো ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু ভবনটিতে পৃথক কোনো ফায়ার স্টেয়ার ছিল না, উপরন্তু একমাত্র সিড়িটিও ছিল গ্যাস সিলিন্ডারের মজুদে পরিপূর্ণ। অর্থাৎ সিড়িটিও ছিল সাধারণ মানুষের ব্যবহার-অযোগ্য। এই ভবনে ওঠানামার একমাত্র উপায় ছিল লিফট। কোথাও আগুন লাগলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই লিফটও অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে ভবনের ভেতর আটকেপড়া মানুষ যেমন নেমে আসতে পারেননি, তেমনি দমকলকর্মীরাও ভবনে প্রবেশের কোনো সুযোগ পাননি। বাইরে থেকে পানি দিয়ে আগুন খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আনার পর তারা উদ্ধার তৎপরতা চালাতে চেষ্টা করেন। তবে এরইমধ্যে বাইরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়।
এক এক করে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। অন্যদিকে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করে ক্রেন দিয়ে ভবনটির ছাদ থেকে নামিয়ে আনা হয়। অচেতন অবস্থায় আরও অন্তত ৪৫ জনকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ও একই প্রতিষ্ঠানের বার্ন ইউনিটে, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে এবং আশপাশের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালে। ১২ জনকে মৃত পাওয়া যায়। রাতে শেষপর্যন্ত নিহতের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত স্পর্শ করে।
বেইলি রোডের বাসিন্দারা কেউ ভাবেননি, তাদের অতিপরিচিত এই জায়গাটিতে অগ্নিদুর্ঘটনায় চোখের পলকে এতো মানুষের প্রাণহানি হবে। আশপাশের আবাসিক ভবনগুলো থেকে বহু মানুষ ভয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। আহত কাউকে দেখামাত্র তারা শরীরে পানি ঢালার ব্যবস্থা করেছেন। কয়েকজনকে রিকশায় তুলে হাসপাতালে পাঠাতেও সহায়তা করেছেন। তবে শেষপর্যন্ত আহত মানুষগুলোর মধ্যে কে কে বেঁচে ফিরেছেন, জানা নেই। কারণ এই ঘটনায় নিহতদের কারোর শরীরের কোথাও দগ্ধ হয়নি। বিষাক্ত ধোঁয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে, কিংবা তা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সাংবাদিকতার বাইরে আমি একজন স্থপতি, ফলে ভবন-সংশ্লিষ্ট একটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয় পর্যালোচনা করা আমার জন্য কিছুটা সহজ। দুর্ঘটনার পর বলা হচ্ছে, গ্রিন কোজি কটেজ কমার্শিয়াল স্পেস হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছিল। এখানে রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করার অনুমোদন ছিল না। ফায়ার সার্ভিসও নাকি ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে মালিকপক্ষকে তিনবার নোটিশ দিয়েছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমাদের অধিকাংশ ভবনগুলোতেই অনুমোদনের তোয়াক্কা করা হয় না, নিরাপত্তার বিষয়টিতেও কারোর গুরুত্ব থাকে না। রেস্তোরাঁর রান্নাঘরের আগুন ও ধোঁয়া ব্যবস্থাপনার জন্য যেভাবে একটি ভবনকে ডিজাইন করতে হয়, অন্য একটি ভবনে সেসব সার্ভিস এরিয়া যেনতেনভাবে স্থাপন করলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এছাড়া একটা কমার্শিয়াল স্পেস ডিজাইন করা হয় নির্দিষ্টসংখ্যক ব্যবহারকারীর কথা মাথায় রেখে। সেই অনুপাতেই লিফট, সিড়ি, ফায়ার এক্সিটসহ আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সন্নিবেশিত করা হয়। কিন্তু কমার্শিয়াল স্পেসকে রেস্তোরাঁয় পরিণত করলে সেখানে আগত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। দুর্ঘটনার সময় নিরাপদে বের হয়ে আসার ক্ষেত্রে এটিও বড় একটি বাঁধা। এছাড়া রেস্টুরেন্টে বাইরের শব্দ ঠেকাতে যেধরনের ফিক্সড গ্লাস ব্যবহার করা হয়, সেটিও গ্রিন কোজি কটেজে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে হয়েছে। আর সিঁড়িটি কাজ করেছে বিষাক্ত ধোঁয়া ওপরে ওঠার শ্যাফট বা পথ হিসেবে। এছাড়া অ্যাকটিভ ফায়ার ফাইটিংয়ের যেসব সরঞ্জাম একটা ভবনে থাকা প্রয়োজন, যেমন— স্প্রিংক্লার, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, বল, সেসবও ছিল না। প্যাসিভ ফায়ার ফাইটিংয়ের জন্য ভবন যেমন খোলামেলা থাকতে হয়, সেটিও ছিল না।
ঘটনার পরদিন সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গ্রিন কোজি কটেজে কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। মানুষের আসা-যাওয়ার জন্য কেবল একটি ছোট সিঁড়ি ছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় মানুষ যে কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে কোনো জানালা ছিল না। প্রখ্যাত স্থপতি ও নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেছেন, গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা অবহেলাজনিত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের একটি। এই ভবনের মতো ঢাকার অনেক বাণিজ্যিক ভবনে যেভাবে বিভিন্ন তলায় রেস্তোরাঁ তৈরি করা হয়েছে, তাতে ভবনগুলো 'টাইম বোমা'য় পরিণত হয়েছে। যেন কখন এই বোমা বিস্ফোরিত হবে, সেই অপেক্ষায় আছেন সবাই।
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (বাস্থই) প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও প্রায় একই কথা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা বলেছেন, একটি ভবনের কার্যক্রম ঠিক কোনভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা দেখভালের জন্য রাজউক ছাড়াও স্থাপত্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থপতি ইন্সটিটিউট, ফায়ার সার্ভিস, র্যাব-পুলিশ-বিজিবি, বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং বুয়েট বা শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স দরকার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেকোনো ভবনের অকুপেন্সি-টাইপ এবং বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী প্রযোজ্য সংশোধন ও সমাধান নির্ধারণ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যদিকে আরেক প্রখ্যাত স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশ তাঁর নিজের ডিজাইন করা ধানমন্ডির গাউসিয়া টুইনপিক নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সেখানেও অনুমোদনহীন একের পর এক রেস্তোরাঁ বসিয়ে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেছেন, বেইলি রোডের ঘটনায় যারা মারা গেছেন তারা আগুনে দগ্ধ হননি। কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায় তারা মারা গেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য চিকিৎসকরাও সেটি বলেছেন। পুরোপুরি এয়ার কন্ডিশনারের ওপর নির্ভরশীল ভবনটি ফিক্সড গ্লাসে মোড়ানো ছিল। কোথাও বায়ু নির্গমন বা এক্সহস্ট হওয়ার জায়গা ছিল না। ফলে আগুন লেগে যে ধোঁয়া তৈরি হয়েছে, তা ভেতরেই আটকে থেকে প্রাণহানি বাড়িয়েছে। একদিকে কাঁচের দেয়াল, অন্যদিকে কোনোপ্রকার অগ্নিনিরাপত্তা না থাকা, এই দুইয়ে মিলে ভবনটি বিপদজনক হয়ে উঠেছিল। আমাদের দেশে স্থপতিরা এখন প্যাসিভ কুলিং ও ন্যাচারাল ভেন্টিলেশনে জোর দিয়ে পরিবেশবান্ধব বহু স্থাপনা নির্মাণ করছেন। কিন্তু যেসব ভবন কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি হচ্ছে বা তৈরির পর ব্যবহারের ধরন বদলে ফেলা হচ্ছে, সেসব ভবনেই দুর্ঘটনা ঘটছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও যথাযথ আইন প্রয়োগের অভাব থাকা এক্ষেত্রে দায়ী। সামগ্রিকভাবে বাসযোগ্য ও মানবিক নগর গড়তে হলে বিল্ডিং কোড মেনে কাজ করতে হবে এবং ভবনমালিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হতে হবে। ইচ্ছামত বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনকে রেস্টুরেন্টে পরিণত করা যাবে না।
বেইলি রোডের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেছেন। তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করছেন। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ইতোমধ্যেই অনেক রেস্তোরাঁ সিলগালা করেছেন। স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশের ডিজাইন করা ভবনের রেস্তোরাঁও বন্ধ হয়েছে। কিন্তু যতো যাই হোক না কেন, বেইলি রোডে মারা যাওয়া অর্ধশত মানুষ তো আর ফিরে আসবেন না। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক থেকে শুরু করে বিদেশযাত্রী পরিবারও ছিলেন। বইমেলা থেকে বই কিনে ফেরার পথে খেতে যাওয়া মানুষও নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। রেস্তোরাঁর ক্যাশিয়ার-ওয়েটার ও অনেক কর্মচারীও মারা গেছেন, যারা ছিলেন পরিবারের একমাত্র সম্বল। এই মানুষগুলোর মৃত্যু তাদের পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।
এমন প্রতিটি ঘটনার পরপরই কিছুদিনের জন্য আমরা খানিকটা ব্যস্ত হই, আলোচনা করি, পরে আবারও তা ভুলে যাই। কিন্তু গ্রিন কোজি কটেজের এই আগুনকে চোখের সামনে থেকে দেখে তা ভুলতে পারছি না। ভবনটির ভেতর সেদিন আপনি-আমি যে কেউ থাকতে পারতাম। আমাদের কোনো নিকটাত্মীয়ও সেখানে থাকতে পারতেন। কিন্তু অন্যকোনো স্থানে একইভাবে যে আমাদের মৃত্যু হবে না, সেই 'নিশ্চয়তা' আমরা কতোটুকু নিশ্চিত করছি? শুধু কয়েকদিনের অভিযান ও কয়েকটি রেস্টুরেন্ট বন্ধ করার মাধ্যমেই কি সেই নিশ্চয়তা পাওয়া সম্ভব, নাকি প্রয়োজন আমাদের সচেতনতা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা? আর এই দায় কি কেবল রাজউক বা সরকারি সংস্থার? নাকি ভবনমালিক ও বাসিন্দা হিসেবেও প্রত্যেকে যার যার জায়গায় থেকে অগ্নিদুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ধারণা রাখা উচিত? বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের এক সপ্তাহ পূর্তিতে সেই প্রশ্নই রয়ে গেলো। একটু সংবেদনশীল পরিকল্পনা বা ব্যবস্থাপনা থাকলে হয়তো গ্রিন কোজি কটেজ আজ এমন ছাইয়ের স্তূপে পরিণত হতো না।