সেমিফাইনালে গিয়ে উচ্ছ্বসিত মরগ্যান

স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে নিউজিল্যান্ড আটকে দেবে বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নিউজিল্যান্ড ১১৯ রানের বিশাল ব্যবধানে উড়ে গেলো। আর এ জয়ের সঙ্গে সঙ্গে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেললো মাঝে একটু অনিশ্চয়তায় পড়ে যাওয়া ইংল্যান্ড। ১৯৯২ সালের পর এ প্রথম সেমিফাইনাল খেলবে দলটি। দলের এই সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ‘অসাধারণ দল’ ও ‘ম্যাচ উইনার’ জনি বেয়ারস্টোর যারপরনাই প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক এউইন মরগ্যান।

গত দুই বিশ্বকাপেই অপ্রত্যাশিতভাবে ছিটকে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। এবার ঘরের মাঠের বিশ্বকাপের জন্য চার বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলো তারা। ইংল্যান্ডকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিপুল প্রত্যাশাও। আর এই সবকিছুতে ধাক্কা লাগতে যাচ্ছিলো। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গেলে কঠিন সমীকরণে পড়ে যেতো তাদের সেমিফাইনালে ওঠা।

জনি বেয়ারস্টোর টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩০৫ রান করেছিল ইংল্যান্ড। ৯৯ বলে ১০৬ রান করেছিলেন বেয়ারস্টো। এরপর নিউজিল্যান্ডকে মাত্র ১৮৬ রানে অলআউট করে দেয় ইংলিশ বোলাররা।

দলের এ পারফরম্যান্সের পর অধিনায়ক মরগ্যান বলেছেন, ‘আমি মনে করি, আমরা আজ অসাধারণ ছিলাম। টপ অর্ডারে আমাদের দুই ছেলে অসাধারণ ব্যাট করেছে। আজকের খেলার সুরটা ওরা দুজন ঠিক করে দিয়ে গেছে। জনি যে সেঞ্চুরি করেছে, ওটা ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি ছিলো।’

মরগ্যান বলছেন, ব্যাটিংয়ে এত রান করার পর নিউজিল্যান্ডের আসলে তেমন সম্ভাবনা ছিল না। কারণ ২৫ ওভারের পর উইকেট ধীরগতির হয়ে পড়েছিল বলে তিনি বলছিলেন, ‘উইকেট ২৫ ওভারের পর বদলে গিয়েছিল এবং সেটা ধীরগতির হয়ে পড়েছিল। এখানে স্কোর করা পরে খুব কঠিন কাজ ছিল। পরে ব্যাটসম্যানরা সবাই এটা উপলব্ধি করায় আমরা বুঝতে পারছিলাম, স্কোর বোর্ডে অনেক রান দরকার নেই। আমরা চাচ্ছিলাম, তিন শ রানের যতো কাছাকাছি যাওয়া যায়।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লর্ডসে হারার পর ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়তে পারে, এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণভাবে ফিরে এসে জয় পেয়েছে তারা। এতে আত্মবিশ্বাসটাও দল ফিরে পেয়েছে। মরগ্যান মনে করেন তারা তাদের আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী মনোভাব ফিরে পেয়েছেন। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা যেভাবে গত দুটি ম্যাচে পারফরম করেছি, গত চার বছর ধরে এটাই আমাদের পরিচিতি ছিল। ব্যাট হাতে স্বাধীনতা নিয়ে পারফরম করা এবং বল হাতে ৫০ ওভার ধরে উইকেট নেওয়ার জন্য বল করে যাওয়া। আশা করি, সেমিফাইনালেও আমরা এই আক্রমণাত্মক ও ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে পারবো।’