লায়নদের বিপক্ষে টাইগারদের প্রস্তুতির নয়া কৌশল

লাক্কাতুরা থেকে সাগরিকা। চা বাগানের প্রাকৃতিক নৈসর্গ থেকে অথই সাগরের গর্জন। দূরত্ব প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার হলেও নিজেদের ভেতরে আরো বেশি ব্যবধান টানতে প্রস্তুত লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। লঙ্কানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে যেভাবে কুপোকাত দশা হয়েছিল, ঠিক বিপরীতভাবে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে চান টাইগার বাহিনী। আর সেজন্য প্রস্তুতিতেও আনা হয়েছে ভিন্নতা। নিজেদের ঝালিয়ে নিতে এক চুলও ছাড় দিবেন না নাজমুল হোসেন শান্তরা, সেটি প্রস্তুতির ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন। 

সিরিজ হারের ক্ষত কাটিয়ে ফুরফুরে মেজাজে ফিরতে গতকাল চট্টগ্রামে ক্লাস নিয়েছেন চান্ডিকা হাথুরুসিংহের সহকারী নিক পোথাস। সেখানে মনোযোগী ছাত্র হয়ে ছিলেন শান্তরা। জড়তা কাটাতে নিজেদের মতো করে চেষ্টা চালিয়েছেন। অনুশীলনের অংশ হিসেবে ফুটবলও খেলেছেন টাইগাররা। ব্যাট হাতে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন সৌম্য সরকার, লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, এনামুল হক বিজয়, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়রা। তবে সেখানে কিছুটা ব্যতিক্রমী আয়োজন নজর কেড়েছে। ব্যাটিংয়ের আগে আস্ত কংক্রিট নিয়ে আসা হয়েছে উইকেটে। তারপরে থ্রোয়ার মেশিন দিয়ে বল নিক্ষেপ করে প্রস্তুতি শুরু করেছেন শান্তরা। বিপিএলে চট্টগামের রানপ্রসবা উইকেট সম্পর্কে সকলেই অবগত রয়েছেন। ওয়ানডে সিরিজেও তেমনটি দেখা যেতে পারে। সেজন্যই হয়তো এমন আয়োজন। পুরোটা সময় শিষ্যদের নজরদারিতে রেখেছিলেন কড়া হেডমাস্টার খ্যাত কোচ হাথুরুসিংহে।

এ দিকে টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবশেষ ম্যাচটিতে এক নুয়ান তুশারায় নাকাল হয়েছিল বাংলাদেশের টপ অর্ডারসহ পুরো দল। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেও নেওয়া হয়েছে প্রস্তুতি। লাসিথ মালিঙ্গার মতো প্রায় একই কায়দায় বল করতে পারা সোহাগকে ডেকে আনা হয়েছে টাইগারদের অনুশীলনে। তার বিপক্ষে দীর্ঘক্ষণ নেটে ব্যাটিং করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। শেষ টি-টোয়েন্টির মতো ওয়ানডেতে যেন তুশারার বলে বিপদে পড়তে না হয়, সেজন্যই হয়তো এমন প্রস্তুতি। লঙ্কান বোলারও মালিঙ্কার কায়দায় বল করেন। সবশেষ ম্যাচে তিনি হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট তুলে নিয়ে একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন টাইগারদের ইনিংস। সেই ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, তারই প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টায় বাংলাদেশ দল। আগামীকাল মাঠে নামার আগে আজও অনুশীলন রয়েছে।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠতে চান তাওহীদ হৃদয়। দলের পক্ষ থেকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বড় লক্ষ্য নিয়ে আগাই না। ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যেতে আমার ভালো লাগে। দল হিসেবে যদি বলি, অবশ্যই আমরা সিরিজ জেতার জন্য খেলব। আমাদের মধ্যে সেই ক্ষুধা আছে (জয় তুলে নেওয়ার)। এই সিরিজটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু একটা সিরিজ হেরেছি সেহেতু ফিরে আসার জন্য এখানে জয় পাওয়াটা জরুরি।’ তবে ওয়ানডেতেও লঙ্কানদের বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়াটা সহজ হবে না, সেটি হৃদয়ও জানেন। তিনি বলেছেন, ‘এই সিরিজটি একটু চ্যালেঞ্জিং হবে। আমাদের সবটুকু চেষ্টা দিয়ে যদি খেলতে পারি, তাহলে ভালো কিছু হবে। সবকিছু ঠিক আছে এবং ভালো আছে। সকলেই টাচে রয়েছে। সকলেই টি-টোয়েন্টি থেকে এসেছি এবং প্রস্তুত হওয়ার জন্য দুই-তিন দিন সময় পেয়েছি। ওয়ানডের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এটি যথেষ্ট সময় বলে আমি মনে করি।’

বিগত সিরিজ নিয়ে হৃদয় মনে করেন, ‘যেটা চলে গিয়েছে সেটা বলে আর লাভ নাই। আমি ওখানে যেই ভুলগুলো করেছি হয়তো সামনের ম্যাচে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করব। আমি মনে করি, সেই ভুলগুলো যত কম করতে পারব আমাদের জন্য ততই ভালো হবে।’

এশিয়া কাপে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই দুর্দান্ত খেলেছিলেন হৃদয়। সুপার ফোরের ম্যাচে ৯৭ বল থেকে করেছিলেন ৮২ রান। সেই বিষয়ে ডানহাতি এই ব্যাটার বলেন, ‘এশিয়া কাপে কয়েকটা ভালো ইনিংস ছিল আমার। বিশ্বকাপে শেষদিকে নেমেও কিছুটা করেছিলাম- সেগুলো অবশ্যই আমাকে অনুপ্রেরণা দেবে। তবে সেগুলো আমার অতীত। সেটি নিয়ে ভাবতে চাই না। ওখান থেকে অনুপ্রেরণা পাব, এখন নির্দিষ্ট দিনে আমাকে ভালো করতে হবে। সেখানে আমি নিজেকে যতটা মেলে ধরতে পারব, সেটি আমার জন্য ভালো হবে, দলের জন্য ভালো হবে।’ হৃদয়রা যেন সেভাবে মেলে ধরতে পারেন, এমন আশা ভক্তদেরও। মাঠে তারাও থাকবেন টি-টোয়েন্টি হারের বদলা নিতে। এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।