রুশ কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনী

বিজয়ের মাসে ধানমন্ডির রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে শুরু হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র ও পেইন্টিং প্রদর্শনী। এতে স্থান পেয়েছে বায়ান্ন ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে স্বাধীন দেশের পথচলার বেশকিছু ঐতিহাসিক ও দুর্লভ আলোকচিত্র। মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের সহযোগিতায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

গতকাল রবিবার সকালে প্রদর্শনীর উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন নূহ আলম লেনিন, গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমির চেয়ারম্যান ড. আবুল আজাদ, রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের পরিচালক আলেক্সান্ডার পি. ডেওমিন, আজিজুর রহমান আজিজ, অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মাহফুজ আলম বেগ, মুক্তিযুদ্ধে মাউন্ট ডিভিশনের ক্যাপ্টেন নাজমুল হাসান পাখি, খালেকুজ্জামান ফারুক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অনেক ইতিহাস আজো অজানা। এসব ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। প্রদর্শনীটি শুধু আলোকচিত্র প্রদর্শনী নয় এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সেই ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইতিহাস। এতে স্থান পেয়েছে- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ, ছায়ানটের রবীন্দ্র শতবার্ষিকী উদযাপন, ছয় দফা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুর পথে প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানো, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে তার প্রচারণা সভা, মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী শিবির, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, তাদের অপারেশন, মিত্রবাহিনীর সঙ্গে যৌথ অপারেশন, বিভিন্ন স্থানে পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর সাদা পতাকা উঁচিয়ে আত্মসমর্পণের চিত্র, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, মুক্তিযুদ্ধের পর ইন্দিরা গান্ধীর বাংলাদেশ সফর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নৌকা-মঞ্চে বক্তৃতাসহ আরো বেশকিছু ছবি। প্রদর্শনীতে মোট ১২০টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। এছাড়া, বেশকিছু পেইন্টিংও রয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এদিকে, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমির উদ্যোগে আজ বিকালে রুশ বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও আলোচনা পর্ব।

গানে গানে আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ :গানে গানে প্রয়াত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে শ্রদ্ধা জানালেন দেশের ব্যান্ড শিল্পীরা। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় ‘ফেয়ারওয়েল ট্রিবিউট টু আইয়ুব বাচ্চু’ শিরোনামের অনুষ্ঠানের। বামবা ও শিল্পকলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শিল্পী মাকসুদের সঞ্চালনায় আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে কথা বলেন সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম, বামবার সভাপতি হামিন আহমেদ, শাফিন আহমেদ, ফুয়াদ নাসের বাবু, মানাম আহমেদ, বাপ্পা মজুমদার প্রমুখ। আয়োজনের শুরুতেই আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে বামবা নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আইয়ুব বাচ্চু এদেশের ব্যান্ডসংগীতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সবসময় প্রাণোচ্ছল এই শিল্পী অনেক বড় মাপের একজন মানুষ ছিলেন। আইয়ুব বাচ্চুর অনেক স্বপ্ন ছিলো, সে স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শাফিন আহমেদ বলেন, সংগীতাঙ্গনে সকলকে যে একত্র করা যায় আইয়ুব বাচ্চু সেটি করে দেখিয়েছেন। ফুয়াদ নাসের বাবু বলেন, তার মধ্যে কোনো রকমের হিংসা ছিল না। আমার সঙ্গে তার অনেক মান-অভিমান থাকলেও আমার কোনো কাজ ভালো হলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে সে আমার প্রশংসা করতো।