ক্রিকেটারদের নিয়ে কটূক্তি বন্ধ করতে হবে

বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে—খেলায় জিতলে জিতে যায় পুরো দেশ আর হারলে কেবল হেরে যায় ওরা ১১ জন! বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন আমাদের এক গর্বের নাম। বিশ্ব দরবারে আমাদের ক্রিকেট এখন পরিণত ও শক্তিশালী এক দল। প্রতিনিয়ত ক্রিকেটের এমন উন্নয়ন সত্যিই বিস্ময়কর। ক্রিকেটের উন্নয়নে বর্তমান সরকার যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষকে একতাবদ্ধ করতে ক্রিকেটের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের খেলা চলাকালীন বয়স-লিঙ্গ, ধর্ম-বর্ণ, রাজনীতি-মতভেদ ইত্যাদি সব ভুলে সবাই বাংলাদেশকে সমর্থন করে যায়। পৃথিবীর যে প্রান্তেই খেলা হোক, বাংলাদেশের সমর্থক গ্যালারিতে থাকবেই! বাহারি রঙে সেজে, কখনো পতাকা হাতে আবার কখনো প্রতীকি রয়েল বেঙ্গল টাইগার হাতে অবিরাম বাংলাদেশকে সমর্থন করতে দেখা যায়। সমর্থকদের এই বাঁধভাঙা উল­াস মাঠের খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগায়। তবে কিছু ব্যতিক্রম সমর্থকও রয়েছে। যারা কি না বাংলাদেশের জয়ে উল­াস করলেও কোনো ম্যাচ খারাপ খেললে বা কোনো খেলোয়াড় প্রত্যাশানুযায়ী খেলতে ব্যর্থ হলে তাকে কুরুচিপূর্ণ এবং বিশ্রী ভাষায় তিরস্কার করতে দ্বিধাবোধ করে না। তারা খেলোয়াড়দের পরিবার নিয়েও কটূক্তি করে! তাদের এমন করুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রধান মাধ্যম ফেসবুক। খেলোয়াড়দের অফিসিয়াল পেইজগুলোর মন্তব্যের ঘরে যাচ্ছেতাই মন্তব্য করে যাচ্ছে গুটিকয়েক সমর্থক। এদের আক্রোশ থেকে বাদ যায় না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার থেকে শুরু করে সদ্য অভিষেক হওয়া ক্রিকেটারও।  

খেলা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হওয়াটাই স্বভাবিক। তবে সেটি হতে হবে গঠনমূলক এবং সুশ্রী ভাষায়। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা করুচিপূর্ণ ভাষায় সমালোচনা অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের খেলায় আমাদের প্রত্যাশার পারদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। সেটি থাকাও স্বাভাবিক। তবে খেলোয়াড়রা আমাদের এমন সুউচ্চ প্রত্যাশা সবসময় পূরণ করতে ব্যর্থ হতেই পারে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু এই সময় সমর্থনের বদলে কটূক্তি করে সমালোচনা করাটা বন্ধ করতে হবে। কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালমন্দ করা কিংবা পরিবার নিয়ে বাজে মন্তব্য করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

সেফাতুল করিম প্রান্ত

শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ,

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা