কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে চুরি হওয়া গরুসহ চোর চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সকালে উপজেলার চড্ডা পাটোয়ারী বাড়ি থেকে ওই দুই চোরকে আটক করে পুলিশ। তাদের নাম আব্দুল খালেক (৬৫) ও মুক্তার হোসেন (৫২)। চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানও জব্দ করা হয়েছে। মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হানিফ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক হওয়া দুই চোরকে কুমিল্লা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৭ মার্চ দিবাগত রাতে উপজেলার সরসপুর গ্রামের আবদুল মতিনের প্রায় লাখ টাকা মূল্যের ১টি ধূসর রঙের গাভি ও লাল রঙের বাছুর চুরি হয়। এ ঘটনায় মালিক আবদুল মতিন বাদী হয়ে মনোহরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জিকু শীল একই এলাকার পিকআপ চালক মুক্তার হোসেনকে (৫২) আটক করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যমতে চোর চক্রের আরেক সদস্য ভাউপুর মির্জা বাড়ির আব্দুল খালেককে (৬৫) আটক করা হয়। অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের অন্য এক সদস্য হুমায়ুন কবিরের বাড়ি থেকে গরু-বাছুর উদ্ধার করে। এসময় চোর চক্রের মূলহোতা পিকআপ মালিক ভাউপুর মির্জাবাড়ীর নাছির উদ্দিন (৪০) ও হুমায়ুন কবির পালিয়ে যায়।
উপজেলা ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজি সেলিম জাহাঙ্গীর মজুমদার বলেন, গত ৬ মাসে এ এলাকায় বেশ কিছু গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরি প্রতিরোধে পুলিশের এমন অভিযানে জনমনে স্বস্তি এনেছে।
মনোহরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হানিফ সরকার বলেন, চুরি, ডাকাতি প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু করার মাধ্যমে এলাকার মানুষকে সচেতনতামূলক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে রাতে পাহাড়ার ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
লাকসাম সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সোমেন মজুমদার জানান, সম্প্রতি মনোহরগঞ্জে একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই চক্রটি চোরাই গরু কেনা-বেচা কাজে জড়িত। আমরা তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি।