টানা বর্ষণ ও বন্যায় রীতিমতো অচল হয়ে পড়েছে ভারতের মহারাষ্ট্রের জনজীবন। একের পর এক নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে ভারি বর্ষণের কারণে। বুধবার রাতে রত্নাগিরি জেলার তিওয়ারে বাঁধ ভেঙে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৪ জনের। ১১ জনের এখনো কোনো খোঁজ নেই। বাঁধের ভেতরে থাকা বহু গ্রাম ভেসে গেছে। ভেঙে পড়েছে অনেক বাড়িঘর।
মুম্বাই থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার দূরে এই বাঁধ ভেঙে পড়ার খবর পেয়েই সেখানে গিয়ে পৌঁছান ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স টিমের সদস্যরা। তারা গ্রামের মানুষকে নিরাপদে বের করে নেওয়ার কাজ শুরু করেন। গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে রাজ্যটিতে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ‘তার রাজ্যে মঙ্গলবার ১২ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে; যা গত এক দশকে সব থেকে বেশি। এই পরিমাণ বৃষ্টির পানি মোকাবিলা করার ব্যবস্থা না থাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মুম্বাই ছাড়াও থানে, পালঘর, রাইগড়, নাসিক, রত্নগিরি, সিন্ধুদুর্গ প্রভৃতি জেলায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে।’
এখন পর্যন্ত বৃষ্টি-বন্যায় মহারাষ্ট্রে কমপক্ষে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার একদিনেই অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়। এদিকে, পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সোমবার থেকে মুম্বাই বিমানবন্দরের প্রধান রানওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটা আলাদা রানওয়ে দিয়ে বিমান ওঠানামা করানো হচ্ছে; কিন্তু তারপরও প্রায় ২০০টি বিমান বাতিল করা হয়েছে। পানি জমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে ট্রেনের যাত্রাও। শহর-গ্রাম সব জায়গায় যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সুপেয় পানির অভাবে ভুগছে। ফলে ছড়িয়ে পড়ছে নানারকম পানিবাহিত রোগব্যাধি।