২৫ বছর পর ঈশ্বরদীর বহুল আলোচিত শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে গুলিবর্ষণের মামলার রায়ে সহোদর তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার পাবনার স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রুস্তম আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ৫২ জন আসামির মধ্যে যে ৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে আপন তিন ভাই। তিন ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিষয় নিয়ে গত দুই দিন ধরে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন ভাইয়েরা হলেন—ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ ও ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন।
বিএনপি নেতা মকলেছুর রহমান বাবলু ১৯৯২-৯৭, ২০০৬-১১ এবং ২০১১-১৬ সাল পর্যন্ত তিন দফায় ঈশ্বরদী পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র ছিলেন। ১৯৯৪ সালে তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার সময় তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঈশ্বরদীর শের শাহ রোডের মরহুম আফসার আলীর ছয় পুত্রের মধ্যে একজন অনেক আগেই মারা গেছে। সাজাপ্রাপ্ত তিন ভাইয়ের মধ্যে মকলেছুর রহমান বাবলু জ্যেষ্ঠ, মাহবুবুর রহমান পলাশ মেজ এবং রেজাউল করিম শাহীন সেজ।
উল্লেখ্য, বহুল আলোচিত ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণের এই মামলার রায়ে ৫২ আসামির মধ্যে ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে পাঁচ জন ইতিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ৩৩ জন কারাগারে এবং ১৪ জন পলাতক রয়েছে।