স্কুল শিক্ষক বেলাল হোসেন (৫৮) লিভার সিরোসিসের মতো কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন সংকটে পড়েছিলেন। দীর্ঘ আড়াই বছরে রোগ শোকে মৃত্যুর পথযাত্রী তিনি। তবে ছেলে জাকির হোসেনের দেওয়া লিভারে আবারও নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন বেলাল হোসেন।
চলতি মাসের ৪ তারিখে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে ছেলের দেওয়া ৪ সে.মি. লিভার স্কুল শিক্ষক বেলাল হোসেনের পেটে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অস্ত্রপচারের মাধ্যমে বেলাল হোসেন নতুন জীবনে পা দিয়েছেন। সুস্থ্য আছেন তার ছেলে জাকির হোসেনও। সব ঠিক থাকলে মাস খানেকের মধ্যে তারা দেশে ফিরবেন। বেলাল হোসেনের বাড়ি গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের চরপিঁপলা গ্রামে। তিনি শ্রীপুর-চরপিঁপলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আড়াই বছর আগে বেলাল হোসেনের লিভার সিরোসিস ধরা পড়ে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে পুরোপুরি সুস্থ্য হননি। বরং সময়ের সাথে সাথে রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করায় বেড়েছে মৃত্যুঝুঁকি।
স্কুল শিক্ষক বেলাল হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন ইত্তেফাককে জানান, পিতার লিভার সিরোসিসের খবর শুনে তারা ভেঙ্গে পড়েছিলেন। তিনি রুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বর্তমানে ওয়াল্টনে চাকরি করছেন। টাকা পয়সার অভাবে উন্নত চিকিৎসা নিয়েও শঙ্কা ছিল। বড় সমস্য হচ্ছিল লিভার দাতা নিয়ে। কোনোভাবেই লিভার দাতার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পড়ে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে তিনি নিজেই পিতাকে লিভার দানের সিদ্ধান্ত নেন। কষ্টেকিষ্টে টাকা জমিয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে গিয়ে এ মাসের ৪ তারিখে নিজের লিভারের কিছু অংশ পিতাকে দিয়েছেন। তার দেওয়া লিভাবে পিতা এখন সুস্থ্য আছেন।
চিকিৎসক অহিদুজ্জামান রুবেল ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিটি সুস্থ্য মানুষের শরীরে লিভার ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। লিভার বর্ধণশীল একটি অঙ্গ। যে কোনো সুস্থ্য মানুষ ৩ থেকে ৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লিভার দান করতে পারেন। এতে দাতা এবং গ্রহিতা দুজনের লিভার স্বাভাবিক পর্যায়ে বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, পিতার জীবন সংকটে ছেলের লিভার দানের বিষয়টি এলাকায় সারা ফেলেছে। অস্ত্রপচারের পর পিতা-পুত্র দুজনেই সুস্থ্য আছেন।
খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন ইত্তেফাককে বলেন. অসুস্থ পিতাকে লিভার দান করে সমাজে দৃষ্টান্ত রেখেছেন জাকির হোসেন। এখন পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে এলাকায় ফেরার অপেক্ষায় আছেন প্রতিবেশিরা। বর্তমান সমাজে পিতার জন্য লিভার দান করার বিষয়টি সত্যিই বিরল।