ঢাকার কেরানীগঞ্জ ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ৪০০ ফুট গভীরতার প্রায় ২ হাজার অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়িতে কাঙ্ক্ষিত পানি না পাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার সমস্যায় রয়েছে।
গত মে মাস থেকেই কেরানীগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে জিনজিরা, কালেন্দী, শুভাঢ্যা, তেঘুরিয়া, কোণ্ডা, আগানগর, বাস্তা, শাক্তা ও রোহিতপুর ইউনিয়নের ১১৫টি গ্রামের প্রায় ২ হাজার অগভীর নলকূপ অকেজো হয়ে গেছে। পানি সংকট মোকাবিলার জন্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদের নির্দেশে গত জুন মাসে ৯টি ইউনিয়নে জরুরিভাবে ৫৫০ ফুট গভীরতার ৪ ইঞ্চি পাইপসহ ৪৮টি সাবমারসিভাল পাম্প স্থাপন করা হলে কিছু পরিবার পানি পেলেও অধিকাংশ পাড়া-মহল্লায় এখনো রয়েছে পানির সংকট।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উপপ্রকৌশলী সাহাব উদ্দিন জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর ভূগর্ভের পানির স্তর ৪ থেকে ৫ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার কারণে কেরানীগঞ্জের ৪০০ ফুট গভীরতার নলকূপগুলোতে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু যে নলকূপেই পানি উঠছে না তা নয়, ঐ এলাকার অধিকাংশ পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশে বলেন, যারা কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে নতুন করে নলকূপ স্থাপন করবে তারা যেন ৪ ইঞ্চি পাইপ দিয়ে ৬০০ ফুট গভীরতায় নলকূপ বসান এবং পাশাপাশি অল্পসময়ে বেশি পানি পেতে সাবমারসিভাল পাম্প লাগান। তবে এলাকার অনেকেই জানান, ৪ ইঞ্চি পাইপ ও সাবমারসিভাল পাম্পসহ নলকূপ লাগাতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ পড়বে। কিন্তু এক সঙ্গে এত টাকা ব্যয় করার সামর্থ্য অনেকেরই নেই। তারা পানি সংকট মোকাবিলায় সরকার এবং ইউনিসেফসহ দাতা সংস্থাগুলোর উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।