চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি স্কুল থেকে অপহরণের শিকার প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও কর্মীদের রোববার উদ্ধার করেছে নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী। বন্দুকধারীরা তাদের অপহরণ করে ৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছিল। মুক্তিপণের সময়সীমা পেরোনোর কয়েকদিন আগেই তাদের উদ্ধার করা হয়। খবর রয়টার্সের।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য কাদুনার শহর কুরিগা থেকে ২৮৭ ছাত্রকে অপহরণ করা হয়। ঘটনাটি ছিল ২০২১ সালের পর নাইজেরিয়ার প্রথম গণ অপহরণ। ২০২১ সালে কাদুনার একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছিল।
সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল এডওয়ার্ড বুবা বলেছেন, প্রতিবেশী রাজ্য জামফারা থেকে রোববার ভোরে ১৩৭ জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭৬ জন নারী ও ৬১ জন পুরুষ।
বুবা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘২৪ মার্চ ২০২৪ তারিখে সামরিক বাহিনী দেশব্যাপী স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে জিম্মিদের উদ্ধার করেছে।’
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদের একটি জঙ্গলে মুক্ত করা হয়েছিল। তাদের পরিবারের কাছে দেওয়ার আগে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য কাদুনার রাজধানীতে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিরাপত্তা বাহিনী অপহরণকারীদের হাত থেকে জিম্মিদের উদ্ধার করতে পেরেছে কিনা বা প্রক্রিয়াটিতে কোনো সংঘর্ষ হয়েছে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কাদুনার গভর্নর উবা সানি এর আগে মোট জিম্মির সংখ্যা ২০০ এর ওপরে বলে জানিয়েছিলেন।
বন্দুকধারীরা এই স্কুল শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মুক্তির জন্য গত সপ্তাহে ১শ কোটি নায়রা (৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার) মুক্তিপণ দাবি করেছিল। তবে সরকার জানিয়েছিল তারা কোনও মুক্তিপণ দেবে না। মুক্তিপণ দেওয়া ২০২২ সালেই নিষিদ্ধ হয়।
কিন্তু মুক্তিপণের দাবিতে অপরাধী চক্রের দ্বারা অপহরণ প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশেষ করে উত্তর নাইজেরিয়ায়। এ অঞ্চলের পরিবারগুলোকে মুক্তিপণের জন্য অনেক সময় জমি, গবাদি পশু ও ফসল বিক্রি করতে হয়।