মাহবুব শরীফ
অবশ্যই অন্যান্য মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম থেকে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সবচেয়ে জনপ্রিয়। আপনি এই আর্টিক্যালটি পড়ছেন, মানে নিশ্চয় আপনিও একজন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী। যদিও শুধু গুগল অ্যাসিসট্যান্টই এই মুহূর্তে একমাত্র স্মার্টফোন ডিজিটাল অ্যাসিসট্যান্ট নয়, তবে অনেক কম সময়ে এটি অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। অ্যাপেলের সিরি আর মাইক্রোসফটের করটানার চেয়ে গুগল অ্যাসিসট্যান্ট কম কিছু নয়। আপনি হয়তো দিনে অনেকবার এই ডিজিটাল অ্যাসিসট্যান্ট ব্যবহার করেন। এই লেখায় এমন কয়েকটি গোপন গুগল অ্যাসিসট্যান্ট কমান্ডের কথা তুলে ধরা হবে যা আপনি জানেন না।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখা সবসময় এক রকম হয় না। যদি আপনার মতামত বা লেখাতে আপনার আত্মবিশ্বাস থাকে তো কেন সেটাকে একবারেই লেখা নয়? এর মানে হলো-আপনি শুধু বলুন আর লিখুন। গুগল অ্যাসিসট্যান্ট ওপেন করুন অথবা বলুন ‘ওকে গুগল’ এরপর সরাসরি কমান্ড দিন ‘পোস্ট টু (ফেসবুক, টুইটার, অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার নাম)’। এবার সরাসরি ঐ অ্যাপে নিয়ে গিয়ে আপনাকে পোস্ট করার জন্য ভয়েস রেকর্ড নেওয়া হবে। যা পোস্ট করতে চান, সেটা বলে ফেলুন, তারপরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি পোস্ট হয়ে যাবে। তো গুগল অ্যাসিসট্যান্ট সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টিংকে আরো সহজ আর ইউনিক করে দিয়েছে।
ফোনের হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ
যখন রিমোট কন্ট্রোল আসেনি অর্থাত্ যখন রিমোট কন্ট্রোল ছিল না তখন মানুষ ভাবতো, ইস! যদি বসে থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যেত!’ রিমোট কন্ট্রোল আবিষ্কারের পরে এবং এর বহুল ব্যবহারের পরে এখন আমাদের আকাঙ্ক্ষা ‘যদি মুখে বলতাম অফ হয়ে যা, তো যদি সবকিছু অফ হতো আবার অন বলতেই অন হতো!’ যদিও এটা সম্ভব হয়ে গেছে আমাদের কাছে, তবে লাইট ফ্যান ভয়েস কন্ট্রোল করে অফ অন করতে ডেডিকেটেড হার্ডওয়্যার প্রয়োজন রয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে গুগল অ্যাসিসট্যান্ট ব্যবহার করে আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের কতিপয় হার্ডওয়্যারকে জাস্ট ভয়েস কমান্ড দিয়ে অফ/অন করাতে পারবেন।
জিমেইল
যদি আপনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো, যেমন- বিল, ফ্লাইট, মিটিং —জিমেইলের মাধ্যমে ম্যানেজ করতে চান, সেক্ষেত্রে গুগল অ্যাসিসট্যান্ট ব্যবহার করে ফোনের হোম স্ক্রিন থেকেই সবকিছু ম্যানেজ করতে পারবেন। নিচের কম্যান্ড লিস্টগুলো দেখুন; শো মি মাই রিসিপ্টস, শো মি মাই বিলস, হোয়াট টাইম ইস মাই ফ্লাইট? হোয়ার ইস মাই হোটেল? ইত্যাদি।
গুগল ক্যালেন্ডার
হ্যাঁ গুগলের ক্যালেন্ডার অ্যাপ ওপেন করে সেখানে বিভিন্ন টাস্কের সময়তালিকা করে রাখা অনেক সহজ ব্যাপার। কিন্তু এই কাজগুলো আপনি শুধু কমান্ড দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড হোম স্ক্রিন থেকে সরাসরি করতে পারবেন। যেমন—ভয়েস কম্যান্ড দিন ‘ক্রিয়েট অ্যান ক্যালেন্ডার ইভেন্ট’ —এবার পরবর্তী নির্দেশনাগুলো কতিপয় ভয়েস কম্যান্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ করুন। ‘হোয়াট ইস মাই শিডিউল ফর (টুডে/টুমরো/যেকোনো ডেট)?’, হোয়াট ইস মাই নেক্সট ইভেন্ট?
নোট
স্মার্টফোন আর ট্যাবলেট আসার পরে ডায়েরির ব্যবহার অনেক কমে গেছে। স্মার্টফোনের নোট আর টু ডু লিস্ট অ্যাপগুলো সত্যিই মনভোলাদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা। যা-ই হোক, অনেক টাইপের নোট সেভ করার অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ রয়েছে, কিন্তু আপনি অ্যাপে ম্যানুয়ালি প্রবেশ না করে, শুধু ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করেই নোট সেভ করতে পারবেন। আপনাকে কমান্ড দিতে হবে ‘নোট টু সেলফ’ এর পরে আপনি যা নোট করতে চান সেগুলোও ভয়েজ রেকর্ড করতে হবে। যেমন ধরুন, আপনি দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার জন্য একটি নোট সেভ করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে কমান্ড দিতে হবে, ‘নোট টু সেলফ, রিমেমবার টু গো টু দ্য ডেন্টিস্ট’—এবার আপনার ফোনে কোনো নোট অ্যাপ ইনস্টল করা রয়েছে, সে অনুসারে নোটটি সেভ হবে। যদি কোনো স্পেশাল অ্যাপ ইনস্টল না থাকে তো জিমেইলে সেভ হবে, তাছাড়া ওয়ান নোট, এভার নোট, গুগল কিপেও এই কমান্ড ব্যবহার করে কাজ করাতে পারবেন।
মিউজিক প্লে
এখন থেকে মিউজিক প্লেয়ারে গিয়ে পছন্দ করে করে ম্যানুয়ালি মিউজিক প্লে করার দরকার নেই। এবার ভয়েস কমান্ড দেওয়ার মাধ্যমেই সম্পূর্ণ কাজটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। গুগল অ্যাসিসট্যান্ট থেকে ভয়েস কমান্ড দিয়ে গুগল প্লে মিউজিক অ্যাপকে ডিফল্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। আপনি যে কোনো নির্দিষ্ট গান, অ্যালবাম থেকে শুরু করে প্লে লিস্ট পর্যন্ত সিলেক্ট করতে পারবেন। একবার আপনার সিলেকশন তৈরি করে নেওয়ার পরে গুগল অ্যাসিসট্যান্ট চালু করতে বলুন, ‘ওকে গুগল’ এবার প্লে মিউজিক, পজ মিউজিক, নেক্সট সং, প্রিভিউয়াস সং, এবং স্যাফল কমান্ড দিতে পারবেন।
আবহাওয়া চেক
গুগল অ্যাসিসট্যান্টে কতিপয় ভয়েস কমান্ড দেওয়ার মাধ্যমে আপনি আবহাওয়া চেক করতে পারবেন। হোয়াট ইজ দ্য ওয়েদার লাইক, ডু আই নিড অ্যান আমব্রেলা টুডে?, উইল ইট রেইন (টুডে/টুমরো, বা যে কোনো ডেট), হোয়াট উইল দ্য ওয়েদার বি ইন (যে কোনো লোকেশনের নাম)।