সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম মহানগরীর কয়েক হাজার অনুমোদিত ভবনের কার পার্কিং স্পেসে গড়ে উঠেছে দোকান, অফিস ও বসতঘর। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় নগরীতে ভবনসমূহের নিচে পার্কিং স্পেসে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সে সময় নগরীতে প্রায় ৪ হাজার ভবন লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করে। ঐ সকল ভবন পার্কিংসহ অনুমোদন নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে পার্কিংয়ের জায়গায় বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়।
সিডিএ থেকে অনুমোদন নেওয়া এ সকল ভবনের বেশির ভাগ বাণিজ্যিক ভবন হলেও গাড়ি পার্কিং ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। সিডিএর কিছু অসত্ পরিদর্শকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে নকশা বহির্ভূত বাণিজ্যিক ভবনগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। সিডিএ থেকে একটি ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়ার পর ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সিডিএর তদারকি থাকার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ভবন মালিক কিংবা সিডিএর পক্ষ থেকে এ সংক্রান্তে কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এতে করে পুরো নগরীর বেশির ভাগ ভবন ও স্থাপনা অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত হচ্ছে। সিডিএর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় লোকবল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বল্পতার কথা বলা হয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০০৮ সালে নগরীর পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত প্রধান প্রধান সড়কসহ আশপাশের নকশা বহির্ভূত ভবনসমূহ চিহ্নিত করে। ঐ সকল নকশা বহির্ভূত ভবনের তালিকা সমৃদ্ধ বই তৈরি করা হয়। সিডিএ পরবর্তীতে তা স্থগিত রেখে নগরীর প্রধান ১৯টি সড়ক পাশের নকশা বহির্ভূত ও কার পার্কিং স্পেস দখলে রাখা ভবনসমূহ চিহ্নিত করে।
সিডিএর প্রধান টাউন প্ল্যানার প্রকৌশলী শাহিনুল ইসলাম জানান, এই ধরনের এক থেকে দেড় হাজার ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ঐ সকল চিহ্নিত ভবনে উচ্ছেদ অভিযান না চালানোর জন্য কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। তবে তা শিগগির শুরু করবেন বলে জানান তিনি।
সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরসহ তত্সংলগ্ন প্রতিটি এলাকায় সিডিএর নির্দিষ্ট পরিদর্শক রয়েছে। ঐ সকল পরিদর্শকের অজ্ঞাতে কোনো স্থাপনা নির্মিত হয় না। কারণ একটি ভবন নির্মাণ করতে কয়েক বছর সময় লাগে। ঐ সময়ের মধ্যে অবশ্যই পরিদর্শকসহ সিডিএর কর্মকর্তাদের নজরে আসে। তাছাড়া ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের পর তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিদর্শকদের নজরে নেওয়া হয়। আবার একটি ভবন নির্মাণের পর সিডিএ থেকে এর ব্যবহার উপযোগিতার ছাড়পত্র নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তা মানা হয় না।
চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ, জিইসি মোড়, লালখান বাজার, নিউমার্কেট সংলগ্ন এলাকা, স্টেশন রোড সংলগ্ন এলাকা, জুবিলী রোড, এনায়েত বাজার মোড় এলাকা, লাভলেইন এলাকা, এসএম খালেদ সড়ক, জামালখান সড়ক, আন্দরকিল্লা সড়ক, বহদ্দারহাট সড়ক, গোল পাহাড় মোড়, প্রবর্তক মোড়, চকবাজার এলাকা, ষোলশহর ২নং সড়ক এলাকা, মুরাদপুর এলাকা, বায়েজিদ এলাকাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংলগ্ন বাণিজ্যিক ও সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন ভবন এবং মার্কেট ভবনের বিরাট সংখ্যকের কার পার্কিং নেই বললেই চলে। এদের মধ্যে বেশির ভাগের নিচতলায় দোকান, অফিস কিংবা বসতঘর রয়েছে। অনেক ভবনে আবার আংশিক কার পার্কিং স্পেশ রাখলেও বেশির ভাগ ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন অলি-গলির সড়ক পাশের ভবনসমূহের গাড়ি দিনে রাস্তার ওপর পার্কিং করে রাখা হয়। এতে করে রাস্তায় যানজট লেগেই থাকে। আবার বিভিন্ন ভবনে কাজে আসা লোকজনও তাদের যানবাহন ভবনের সামনে সড়কে পার্কিং করে রাখে। ফলে নগরীর বিরাট অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়।